আন্তর্জাতিক
তুরস্কে স্কুলের বাইরে এক শিক্ষার্থীর এলোপাথাড়ি গুলি, ১১ শিক্ষার্থী আহত

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় মানিসা প্রদেশে নিজ হাইস্কুলের সামনে এক শিক্ষার্থীর গুলিতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটা এই হামলার ঘটনায় হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ।
তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থীকে আটক করার পাশাপাশি তার বাবা-মা এবং দাদাকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি ওই কিশোরের দাদার বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বিচারমন্ত্রী বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। হামলাকারী কীভাবে অস্ত্রটি হাতে পেল, সেটি সংরক্ষণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং বাবা-মায়ের নজরদারির বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এছাড়া হামলার আগে ওই শিক্ষার্থী কোনো বুলিংয়ের শিকার হয়েছিল কি না, সেটিও বহুমুখী তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্থানীয় গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে তুরগুতলু জেলার ইন্সি উজমেজ ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল আনাতোলিয়ান হাইস্কুলের সামনে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, রাইফেল হাতে এক ব্যক্তি স্কুলের কাছের একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পরই দৌড়ে ফিরে আসছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে মানিসায় যাচ্ছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতি এবং শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন বলে জানিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে তুরস্কে স্কুলে দুটি মারাত্মক গোলাগুলির ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয় সরকার। এর আগে দেশটিতে স্কুলে এ ধরনের হামলার কোনো পূর্ব-ইতিহাস ছিল না।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসভিএন