ভারত
১০ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে কেরালা পুলিশের স্নাইফার ডগ সামান্থা
.webp)
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পুলিশের ডগ স্কোয়াডের সদস্য হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান, তল্লাশি ও নানা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে ল্যাব্রাডর প্রজাতির কুকুর ‘সামান্থা’।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরালা পুলিশের পত্তনমতিট্টা জেলা স্কোয়াড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেছে এই ভেটেরান স্নাইফার ডগ। তবে অবসরের পর তাকে আর পুলিশের ডগ স্কোয়াডে থাকতে হচ্ছে না, সামান্থার বর্তমান হ্যান্ডলার জর্জ অ্যান্টনি তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে সামান্থার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল পুলিশের নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলায় মোড়ানো। জেলা পুলিশ প্রধান আর. আনন্দের সামনে দিয়ে হ্যান্ডলার জর্জ অ্যান্টনির সঙ্গে হেঁটে যাওয়ার সময় সামান্থা পুলিশ কর্মকর্তাকে স্যালুট জানায়। দীর্ঘ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকেও পাল্টা স্যালুট ও ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে পুলিশ প্রধান আর. আনন্দ জানান, সামান্থার সঙ্গে তার আগের হ্যান্ডলার শ্যামরাজ ও শাবু এবং বর্তমান হ্যান্ডলার জর্জ অ্যান্টনির সম্পর্ক পুলিশের কে-নাইন (K9) স্কোয়াডের পারস্পরিক বিশ্বাস ও শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক 'তোফান' অপারেশন থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি বড় তল্লাশি ও অভিযানে সামান্থা পুলিশের সঙ্গী ছিল। গত কয়েক বছরে তার অবদান সত্যিই অমূল্য। অনুষ্ঠান শেষে সামান্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জর্জ অ্যান্টনির হাতে তুলে দেওয়া হয়। আবেগাপ্লুত অ্যান্টনি বলেন, প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় থেকেই তিনি সামান্থার সঙ্গে যুক্ত এবং সে তার কাছে নিজের মেয়ের মতোই।
পুলিশের রেকর্ডে কে৯-২৮৬ (K9-286) হিসেবে পরিচিত সামান্থা মূলত মাদক শনাক্তকারী হিসেবে ডগ স্কোয়াডে যোগ দিয়েছিল। কর্মজীবনে সাড়ে তিনশ'র বেশি তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করেছে সে। তার নিখুঁত ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে কয়েক কোটি টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৩ সালে স্টেট পুলিশ ডিউটি মিটে পত্তনমতিট্টা জেলার প্রতিনিধিত্ব করে ট্র্যাকিং ও ঘ্রাণ শনাক্তকরণ (সেন্ট আইডেন্টিফিকেশন) ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সামান্থা। অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য সে জেলা পুলিশ প্রধানের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি 'গুড সার্ভিস এন্ট্রি'ও পেয়েছে।
পত্তনমতিট্টা পুলিশের কে-নাইন স্কোয়াডে বর্তমানে মাদক, বিস্ফোরক শনাক্ত ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পারদর্শী এমন ৬টি প্রশিক্ষিত কুকুর রয়েছে। এর মধ্যে সামান্থা ও র্যাম্বো মাদক উদ্ধারে, সায়া ও জ্যাক ক্রাইম-সিন বা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এবং সিগো ও জুলি বিস্ফোরক শনাক্তে প্রশিক্ষিত। প্রতিটি কুকুরের জন্য দুজন করে মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য এই স্কোয়াডে কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপিদের পরিদর্শনের সময়ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই স্কোয়াড নিয়োজিত থাকে।
সূত্র: দ্য হিন্দু
ডিবিসি/ এসভিএন