ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক বিরোধের পরও মামদানির প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

রাজনৈতিক বিরোধের পরও মামদানির প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক বিরোধের পরও মামদানির প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে

নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গ্রেসি ম্যানশনে দুজনের মধ্যে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেন, মামদানি নিউইয়র্ক সিটির জন্য একজন দুর্দান্ত মেয়র হতে চলেছেন।

ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্ররা আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কমিউনিজম বা সাম্যবাদ বিস্তারের যে অভিযোগ তুলছেন, সেখানে ৩৪ বছর বয়সী মামদানিকে তারা একটি নেতিবাচক প্রতীক হিসেবেই ব্যবহার করে আসছিলেন। এমনকি ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের 'ঈশ্বরহীন কমিউনিস্ট' বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। চরম ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প বরাবরই অভিবাসী ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে সোচ্চার, অন্যদিকে উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং একজন সমাজতান্ত্রিক আদর্শের অনুসারী। ঠিক এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপরীত মেরুর এই মেয়রের প্রতি ট্রাম্পের এমন উষ্ণ মূল্যায়ন বেশ অবাক করার মতোই।


মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের ভাষণের ঠিক আগে গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল গত ৪৫ বছরের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম গ্রেসি ম্যানশন সফর। এর আগে সর্বশেষ ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগ্যান এই বাসভবনে তৎকালীন মেয়র এড কোচের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।


ট্রাম্পকে কেন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি জানান, নিউইয়র্কবাসীর জন্য যারা কাজ করতে পারবেন, এমন যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গেই তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে নতুন হাজার হাজার সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের বিষয়ে উভয়ের অভিন্ন লক্ষ্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পও মামদানির দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এবং জানান তিনি দেশের ও নিউইয়র্কের ভালো চান।


বৈঠকে অভিবাসন নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতিয়ান অভিবাসীদের সুরক্ষা বাতিল করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মামদানি। মেয়র জানান, নিউইয়র্ক শহরের অর্থনীতি ও সমাজকাঠামোর জন্য অভিবাসীরা, বিশেষ করে হাইতিয়ান অভিবাসীরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সে বিষয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে তার জোরালো মতামত তুলে ধরেছেন। তারা দুজনেই স্বীকার করেছেন যে অনেক বিষয়ে তাদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এর আগে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কসহ অন্যান্য রাজ্যের করা একটি মামলাতেও ভূমিকা রেখেছিলেন মামদানি।


সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর মতো সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে ট্রাম্পকে তিনি কিছু বলেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন এবং সব সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি তিনি সমর্থন করেন। এর জবাবে ট্রাম্প স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ওই গণমাধ্যমগুলো তাকে বয়কট করার কথা বললেও তারা কখনোই তা করে না, তাই বিষয়টি নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন।


তবে রাজনৈতিক ও নীতিগত এতসব পার্থক্যের পরও সংবাদ সম্মেলনে দুজনের শারীরিক ভাষা ছিল বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ। মামদানি যখন ডায়াস থেকে কথা বলছিলেন, ট্রাম্প তখন অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে কিছুটা সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি পরম স্নেহে মামদানির বাহুতে দুবার হালকা চাপড়ও দেন।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন