আন্তর্জাতিক
নাইজেরিয়ায় কারাগারে চোখের সামনে ৩৭ বন্দীর মৃত্যু

নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিন্নার একটি আটককেন্দ্রে কারারক্ষীদের চরম নিষ্ঠুরতা ও অবহেলায় দমবন্ধ হয়ে ৩৭ জন বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ১৮ বর্গমিটারের (৬ মিটার লম্বা ও ৩ মিটার চওড়া) একটি ছোট্ট সেলে ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে আটকে রাখা হয়েছিল।
প্রচণ্ড গরম ও পানিশূন্যতায় সেলের ভেতরেই ৩৩ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে আরও চারজনের মৃত্যু হয়। ভয়াবহ এই গণমৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং জবাবদিহির দাবিতে তারা সরকারি ভবনে হামলাসহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
ভয়াল সেই রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেঁচে ফেরা বন্দী উসমান মুহাম্মদ জানান, সেলের ভেতরে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মনে হচ্ছিল তাদের শরীরে আগুন জ্বলছে। বাইরের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকলেও সেলের ভেতরে আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। বাতাস চলাচলের একমাত্র ভরসা ছিল উঁচুতে থাকা একটি ছোট্ট জানালা। উসমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে একজন অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমরা দরজায় ধাক্কা দিয়ে রক্ষীর কাছে পানি চাই। কিন্তু সে অজ্ঞান লোকটার দিকে তাকিয়ে অবলীলায় দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপরই চোখের সামনে মানুষ একে একে মরতে শুরু করে।’
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, বেঁচে থাকার তীব্র আকুতিতে তৃষ্ণার্ত বন্দীরা নিজেদের ঘাম ও প্রস্রাব পানে বাধ্য হয়েছিলেন।
আরেকজন বেঁচে যাওয়া বন্দী আদামু ইসাহ জানান, তারা চিৎকার করে রক্ষীদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মানুষ মারা গেলে সেটি তার কোনো সমস্যা নয়। গত মঙ্গল ও বুধবার অবৈধ খনি উত্তোলনের অভিযোগে নাইজেরিয়া সিকিউরিটি অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্পস (NSCDC) এই তরুণ খনি শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করে সেখানে আটকে রেখেছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার দরজা খোলার পর রক্ষীরা মৃতদেহগুলো দেখতে পায়।
এই অমানবিক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে নাইজেরিয়ার সরকার। সরকারি কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাবকে দায়ী করলেও, এখন প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া নাইজার রাজ্যের কমান্ড্যান্ট সুবেরু আনিভিয়েসহ NSCDC-এর ২৪ জন কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নাইজার রাজ্যের গভর্নর উমারু বাগো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘নিহতরা কোনো মাছি নয়, আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।’ দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুবুনমি তুনজি-ওজোও নিশ্চিত করেছেন যে, পদমর্যাদা নির্বিশেষে এই নিষ্ঠুরতায় দোষী কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এমএনকে