সারা বাংলা
গোপালগঞ্জে নিষিদ্ধ চায়না জাল জব্দ করতে গিয়ে হামলার শিকার ২ গ্রামপুলিশ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধারে গিয়ে দুই গ্রাম পুলিশকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় হামলাকারীরা গ্রাম পুলিশদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোদের বিল থেকে জাল ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে কে?’
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বড় ডুমুরিয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মোহাম্মদ ইউসুফ শেখ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ শ্যামল কুমার বিশ্বাস। ইউসুফ শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শ্যামল কুমার বিশ্বাস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে বড় ডুমুরিয়া বিল থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধারে যান চার গ্রাম পুলিশ ও একজন দফাদার। এ সময় তারা বিল থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাল উদ্ধার করেন। জাল উদ্ধারের একপর্যায়ে স্থানীয় তিন থেকে চারজন একটি নৌকায় করে সেখানে গিয়ে গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তারা দুই গ্রাম পুলিশকে মারধর করেন।
হামলায় ইউসুফ শেখ ও শ্যামল কুমার বিশ্বাস আহত হন। পরে হামলাকারীরা চলে গেলে অন্য গ্রাম পুলিশ ও দফাদার আহতদের উদ্ধার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহত গ্রাম পুলিশ শ্যামল কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছারের নির্দেশে আমরা বড় ডুমুরিয়া বিল থেকে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করতে যাই। ৩০-৪০টি জাল উদ্ধারের পর ৩-৪ জন লোক একটি নৌকায় করে আমাদের কাছে এসে বলে, ‘তোদের বিল থেকে জাল ওঠানোর অনুমতি দিয়েছে কে?’ তারা আরও বলে, ‘অনেক টাকার ঋণসহ চারটা মামলা আছে। যদি সাজা হয় হবে, আজকে তোদের ছাড়ব না।’ এরপরই আমাদের মারধর শুরু করে।’
প্রত্যক্ষদর্শী দফাদার অনন্ত বৈদ্য বলেন, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর আহত দুই গ্রাম পুলিশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ইউসুফ শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং শ্যামল কুমার বিশ্বাস প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
ঘটনার পর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, দুই গ্রাম পুলিশকে মারধরের পর সেখানে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আহত গ্রাম পুলিশদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ বা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিবিসি/এসভিএন