আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে এআই, কয়েক মাস পর জানল সরকার

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা 'মেডিকেয়ার'-এ অননুমোদিতভাবে প্রবেশ বা হ্যাক করেছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, গত জুন মাসে ঘটা এই সাইবার অনুপ্রবেশের খবরটি অস্ট্রেলিয়া সরকার জানতে পেরেছে কয়েক মাস পর। তাও আবার একটি সাধারণ সরকারি ইমেইলে পাঠানো ওপেনএআই-এর একটি বার্তার মাধ্যমে।
জানা গেছে, এই এআই এজেন্টটি মেডিকেয়ারের পরিসংখ্যান রিপোর্টিং পোর্টালের সাধারণ ও গোপন ফাইলে প্রবেশ করে। মূলত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান তৈরির মতো একটি সাধারণ গবেষণার কাজ দেওয়া হয়েছিল এটিকে। কিন্তু এটি নিজের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে বসে। মেডিকেয়ার ছাড়াও এটি অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের অপরাধ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সিস্টেমেও প্রবেশ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য বেহাত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
হামলার ঘটনাটি জুনে ঘটলেও ওপেনএআই বিষয়টি নিজেদের নজরে আনতে পারে আগস্টে। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার একটি সাধারণ সরকারি ইমেইল ঠিকানায় বার্তা পাঠিয়ে তারা হ্যাকিংয়ের বিষয়টি জানায়, যা পরদিন পড়া হয়। এত দেরিতে এবং এমন দায়সারাভাবে খবরটি জানানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। তিনি পুরো বিষয়টিকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা আলবানিজ ইতোমধ্যে ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সাথে কথা বলে অস্ট্রেলিয়ার গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়ক, এআই অফিস এবং সিগন্যাল ডিরেক্টরেটসহ বেশ কয়েকটি সংস্থাকে নিয়ে একটি জরুরি টাস্কফোর্স গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লস ঘটনাটিকে তুলনামূলকভাবে 'ছোট' উল্লেখ করলেও একে নিয়ন্ত্রণহীন এআই প্রযুক্তির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন। বিশেষজ্ঞরাও এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের বড় ধরনের সাইবার হামলার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। ইউনিভার্সিটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. জোয়েল পিয়ারসন সতর্ক করে বলেন, ওপেনএআই-এর মতো বদ্ধ সিস্টেমের চেয়ে চীন বা রাশিয়ার ওপেন সোর্স মডেলগুলো ভবিষ্যতে স্প্যামার বা হ্যাকারদের হাতে পড়লে তা আরও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী অধ্যাপক টবি ওয়ালশ মনে করেন, এই চরম গাফিলতির জন্য ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি ওপেনএআই-এর বিচার হওয়া উচিত। কারণ কোনো মানুষ এমন হ্যাকিং করলে তাকে ঠিকই বিচারের আওতায় আনা হতো। ইউনিভার্সিটি অব সিডনির গবেষক ড. রব নিকোলস বলেছেন, কোনো মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই একটি এআই এজেন্টের এমন স্বাধীনভাবে সরকারি সিস্টেমে প্রবেশ করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান সাইবার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা আইনগুলো যুগের তুলনায় কতটা পিছিয়ে আছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এসভিএন