লাইফস্টাইল
ঘরে বসেই পার্সেল ট্র্যাকিং, নতুন রূপে ফিরছে ডাক বিভাগ

প্রযুক্তির প্রসারে চিঠির যুগ পেছনের সারিতে চলে গেলেও ই-কমার্সের হাত ধরে নতুন রূপে ফিরছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এখন থেকে গ্রাহকরা ঘরে বসেই নিজেদের পার্সেলের অবস্থান জানতে পারবেন। পাশাপাশি সেবার পরিধি বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লেটার রাইটার মডিউল’ চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক বিভাগের ‘মেইল প্রসেসিং এবং লজিস্টিক সার্ভিস’ প্রকল্পের আওতায় ডমেস্টিক মেইল সিস্টেমের (ডিএমএস) মাধ্যমে বর্তমানে প্রতিটি পার্সেলের গায়ে বারকোড যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে পণ্যটি পরিবহনের সময় কোথায় আছে, তা সহজেই ট্র্যাক করতে পারছেন গ্রাহকরা।
নতুন এই ব্যবস্থায় ডাক বিভাগের লজিস্টিক সক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়েছে। এখন ২০ থেকে ৩০ কেজি ওজনের ফলের ক্রেটসহ বিভিন্ন পণ্য মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো জেলায় নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত উপজেলার ক্ষেত্রে সময় লাগছে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা।
কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে ডাক বিভাগ প্রাথমিকভাবে দেশের ১২টি এলাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ হয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় পণ্য সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ করলে তা ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি’ এবং কোনো ব্যক্তি একক উদ্যোগে এই কাজ করলে তাকে ‘লেটার রাইটার’ হিসেবে গণ্য করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা থেকে গ্রামীণ পর্যায় পর্যন্ত এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
পার্সেল পরিবহনের পাশাপাশি সরকারি সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভূমির দলিল, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সরাসরি গ্রাহকের বাসায় পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগ। এছাড়া ই-কমার্স পণ্যের ক্যাশ অন ডেলিভারি সেবা চালুর বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক চিঠির প্রচলন কমে গেলেও ই-কমার্স এবং আধুনিক পার্সেল সেবাকে ঘিরেই নতুনভাবে নিজেদের কার্যক্রম সাজাচ্ছে ডাক বিভাগ।
ডিবিসি/এমএনকে