ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি

টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি

সারা বাংলা

টাঙ্গাইলে সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় প্রকৌশলীকে বান্দরবানে বদলি

সোহেল তালুকদার, টাঙ্গাইল

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

অফিস আদেশ বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাকে তাঁহার নামের পার্শ্বে বর্ণিত পদবি ও কর্মস্থলে স্ব-বেতন স্কেলে বদলি করা হইল। বর্ণিত কর্মকর্তা আগামী ২৭-০৯-২০২৬ খ্রি. তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হইতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করিবেন; অন্যথায় ২৭-০৯-২০২৬ খ্রি. তারিখ অপরাহ্ণে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হইবেন। একই সাথে আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব (৬ষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না করা পর্যন্ত) প্রদান করা হইল। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান তার স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।’

 

এদিকে, সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যভহারের  ঘটনাটি সারাদেশে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টির সত্যতা সামনে আনতে দফায় দফায় চলছে তদন্ত। এ ঘটনায় মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত একজন উপ-সহকারীকে বরখাস্ত ও একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

 

এরমধ্যেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযানে নেমেছে দুদক। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক টাঙ্গাইলের কার্যালয় থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণ কম রয়েছে।

 

ঘটনার তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেনের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মো. আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আলতাব হোসেনকে সদস্য করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর (বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়ক) ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হচ্ছিল। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে।

 

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে বাধা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে কাজটির ভিডিও ধারণ করে।

 

স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর আবার রাতে কাজ শুরু করে ঢালাই শেষ করা হয়। পরে স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।

 

টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন মুঠোফোনে কাজী ফাত্তাউর রহমানের স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এসময় তিনি শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেন।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন