সারা বাংলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউএনও অফিসে ছুটে এসে নিজের বাল্যবিয়ে রুখে দিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী

বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে নিজের স্বপ্নের পথে একধাপ এগিয়ে গেল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অমতে বাল্যবিয়ে করতে রাজি না হয়ে প্রতিকার পেতে একাই হাজির হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। ছোট বয়সে মেয়েটির এমন সাহসী পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে পুলিশ অফিসার হওয়ার অদম্য ইচ্ছা দেখে মুগ্ধ হয়ে তার পড়াশোনার সব দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থী শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, সম্প্রতি পরিবার থেকে তার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এই বয়সে বিয়ে না করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় ওই ছাত্রী। নিজের স্বপ্ন পূরণ ও বাল্যবিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একাই বাড়ি থেকে বের হয় সে। প্রথমে উপজেলা থানায় গেলে সেখান থেকে তাকে ইউএনও কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কার্যালয়ে পৌঁছে ইউএনওর কাছে নিজের ইচ্ছার কথা বিস্তারিত তুলে ধরে সে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটি ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়লেও তার চিন্তা-ভাবনা অনেক পরিণত। সে খুব সুন্দর ও গুছিয়ে কথা বলতে পারে। তার সাহসিকতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা শুনে আমি সত্যিই মুগ্ধ। পরবর্তীতে তার পরিবার ও স্থানীয় শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ে ডাকা হয়। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিবারকে বুঝিয়ে বাল্যবিয়ে না দিতে সম্মত করা হয়েছে।’
ইউএনও আরও জানান, ওই শিক্ষার্থীর তাৎক্ষণিক পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, প্রয়োজনীয় বই, ব্যাগ ও নতুন পোশাক কিনে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার শিক্ষা জীবনের শেষ পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সব ধরণের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
শ্যামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটির বাবা নেই এবং পরিবারটির নিজস্ব কোনো জায়গা-জমিও নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। অভাব-অনটনের মাঝেও মেয়েটির পড়াশোনার তীব্র ইচ্ছা রয়েছে। ইউএনও মহোদয় যে মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও মেয়েটির স্বপ্ন পূরণে সব ধরণের সহায়তা করা হবে।’
প্রশাসনের এমন তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও সহায়তায় স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে এই ঘটনাটি অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ডিবিসি/এসডব্লিউএন