সারা বাংলা
মুন্সিগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা লোপাট করে কর্মকর্তা উধাও

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা লোপাট ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে শাখাটির ক্যাশ ইনচার্জ শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে। টাকা লোপাট করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় তার এই জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এতে ওই শাখার গ্রাহকদের মাঝে তীব্র উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাংকের।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় টাকা জমা দেওয়ার রসিদ গ্রাহকদের কাছে থাকলেও ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে সেই টাকার কোনো হদিস নেই। অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণে গিয়ে একের পর এক গ্রাহক জানতে পারছেন তাদের হিসাবে টাকা জমা হয়নি। ১৪টি অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক নিরীক্ষায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা জমা না হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই কারসাজির ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যাশ ইনচার্জ শরিফুজ্জামান সোহাগ তিন দিন ধরে ব্যাংকে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। তিনি গত পাঁচ বছর ধরে ওই শাখায় কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হওয়ায় গ্রাহকদের সঙ্গে তার এক ধরনের সখ্যতা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তিনি এই অপকর্ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রাহকদের হিসাবে টাকা না থাকার বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাংকের বাইরে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় বাড়তে থাকে। এ সময় অনেকে তাদের কাছে থাকা টাকা জমার রসিদ নিয়ে ব্যাংকে এসে নিজ নিজ হিসাব যাচাই করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শ্রীনগর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ব্যাংক পরিদর্শনে যান এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা সার্কেলের প্রধান সার্কেল কর্মকর্তা আতিকুর রহমানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যাংকের কয়েকটি হিসাব নম্বরে কারসাজি হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে ব্যাংক তাদের টাকা বুঝিয়ে দেবে।
ডিবিসি/আরএসএল