ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

স্কটল্যান্ডের দ্বীপে ৩৪ বছর পর জন্ম নিল প্রথম শিশু

স্কটল্যান্ডের দ্বীপে ৩৪ বছর পর জন্ম নিল প্রথম শিশু

আন্তর্জাতিক

স্কটল্যান্ডের দ্বীপে ৩৪ বছর পর জন্ম নিল প্রথম শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৮ ঘন্টা আগে

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর স্কটল্যান্ডের প্রত্যন্ত দ্বীপ নর্থ রোনাল্ডসেতে এক শিশুর জন্ম হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৫ মিনিটে দ্বীপটির ঐতিহাসিক বাড়ি ‘হল্যান্ড হাউসে’ জন্ম নেয় ডানকান ওয়াইল্ডার থরস্টেইন ট্রেইল সুয়ারেজ ফোর্ড।

বিবিসি স্কটল্যান্ডের তথ্যমতে, ১৯৯২ সালের আগস্টে টমাস ব্রুকম্যানের জন্মের পর ডানকানই এই দ্বীপে জন্ম নেওয়া প্রথম শিশু। তার আগমন উপলক্ষে বাড়ির বাইরে পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং দ্বীপবাসীরা নবজাতকের মঙ্গল কামনা করে আনন্দ উদ্‌যাপন করেন।

 

স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে উত্তরের ছোট ও বিচ্ছিন্ন জনপদ এই নর্থ রোনাল্ডসে। সরকারি হিসাবে ২০২৪ সালে দ্বীপটির জনসংখ্যা ৭২ বলা হলেও, নবজাতকের মা অ্যালিস ট্রেইল ফোর্ড সিএনএনকে জানান, বর্তমানে সেখানে মাত্র ৫১ জন মানুষ বসবাস করেন।

 

দ্বীপটিতে কোনো হাসপাতাল বা স্থায়ী চিকিৎসক নেই, কেবল একজন নার্স রয়েছেন। সেখান থেকে অর্কনির মূল দ্বীপ কার্কওয়ালে যেতে বিমানে প্রায় ২০ মিনিট এবং ফেরিতে ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সময় লাগে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই গর্ভবতী নারীরা নিরাপদ প্রসবের জন্য মূল ভূখণ্ডের হাসপাতালে চলে যান। মূলত বিচ্ছিন্ন অবস্থান ও চিকিৎসা সুবিধার অভাবেই গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে এখানে কোনো শিশুর জন্ম হয়নি।

 

অ্যালিস ট্রেইল ফোর্ড ও তাঁর বাগ্‌দত্তা হোর্হে সুয়ারেজ বর্তমানে কোস্টা রিকায় বসবাস করেন। প্রথমে সেখানেই সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। তবে নর্থ রোনাল্ডসেতে আসার পর তাঁরা মত বদলান। অ্যালিস শৈশবে এই দ্বীপেই গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতেন। তিনি বিবিসি স্কটল্যান্ডকে বলেন, ‘আমার মন বলছিল, সন্তানের জন্মের জন্য এটাই সঠিক জায়গা।’

 

১৭২৭ সালে অ্যালিসের পূর্বপুরুষরা নর্থ রোনাল্ডসে দ্বীপটি কিনেছিলেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ‘হল্যান্ড হাউস’ তাঁদের মালিকানায় রয়েছে। নবজাতকের নামও রাখা হয়েছে অ্যালিসের দাদা এবং দ্বীপের সাবেক জমিদার ডানকানের নামানুসারে।

 

দ্বীপে সন্তান প্রসবের জন্য দম্পতিটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থার (এনএইচএস) সঙ্গে আগে থেকেই যোগাযোগ করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। দ্বীপের উদ্দেশে দিনের শেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর অ্যালিসের প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে কোস্টগার্ডের একটি হেলিকপ্টারে করে দুজন ধাত্রীকে দ্রুত ওই দ্বীপে পাঠানো হয়। তাঁদের সহায়তায় কোনো জটিলতা ছাড়াই সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসে ডানকান। দুর্গম এলাকায় এমন দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পেয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অ্যালিস।

 

আগামী নভেম্বরে পরিবারটি কোস্টা রিকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিজের শৈশবের মতোই ছেলে ডানকানকেও প্রতিবছর এই পৈতৃক দ্বীপে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে মা অ্যালিসের।

 

সূত্র: গালফ নিউজ

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন