আন্তর্জাতিক
ইরান সীমান্ত ও হরমুজ প্রণালিতে লেজার অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

পরীক্ষাগার ছাড়িয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যাধুনিক লেজার অস্ত্র মোতায়েন করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী এই লেজার প্রযুক্তি তৈরিতে ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) ডলার বরাদ্দ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে শত্রু ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম এই প্রযুক্তি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইরানের অদূরে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজে ইতিমধ্যে এই লেজার ব্যবস্থা বসানো হয়েছে। সেখানে মার্কিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় এটি কাজ করছে। এছাড়া মেক্সিকো সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাকারবারিদের অন্তত ১১টি ড্রোন এই লেজার রশ্মি দিয়ে ভূপাতিত করেছে মার্কিন যৌথ টাস্কফোর্স।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি বা জেনারেটরের শক্তিকে অদৃশ্য ইনফ্রারেড লেজার রশ্মিতে রূপান্তর করা হয়।
লক্ষ্যবস্তুর ওপর মাত্র কয়েক সেকেন্ড এই শক্তিশালী রশ্মি স্থির রাখলেই প্রচণ্ড উত্তাপে সেটি গলে যায় বা বিস্ফোরিত হয়। ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস করার পাশাপাশি এর সেন্সর বিকল করে দেওয়ার কাজেও ব্যবহৃত হচ্ছে নৌবাহিনীর ৬০ কিলোওয়াটের বিশেষ ‘হেলিওস’ (HELIOS) লেজার সিস্টেম।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জটিল লেজার সিস্টেমটি পরিচালনার জন্য মার্কিন সেনারা সাধারণ ভিডিও গেম কনসোল ‘এক্সবক্স’-এর কিছুটা পরিবর্তিত কন্ট্রোলার ব্যবহার করছেন। ভিডিও গেমের মতো নিখুঁতভাবে নিশানা ঠিক করে কয়েক মুহূর্তেই ড্রোন নামিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে এতে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেজার অস্ত্রের সফল মোতায়েনের ফলে চিরাচরিত গোলা-বারুদের ওপর নির্ভরতা ও যুদ্ধব্যয় ব্যাপকভাবে কমবে। তবে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও কুয়াশায় এর কার্যক্ষমতা কিছুটা হ্রাস পায় এবং ড্রোন ঝাঁক (সোয়ার্ম) ঠেকানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও ভবিষ্যতে আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ও মহাকাশ প্রতিরক্ষায় এই লেজার অস্ত্র বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট