ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে

অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তাপজনিত কারণে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের নতুন এক পূর্বাভাসে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

বর্তমান এল নিনোর প্রথম নয় মাস, অর্থাৎ জুন ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি গড় বছরের তুলনায় এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা পরিমাপ করা হয়েছে। 

 

ধারণা করা হচ্ছে, এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার মৃত্যুই ঘটবে সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে। গবেষকদের অনুমান, আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকবে এবং চরম গরম দিনের সংখ্যা একটি সাধারণ বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে, যা আগামী দুই দশকের মধ্যে পৃথিবীর ক্রমাগত উষ্ণায়নের ফলে একটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

 

এই চরম তাপপ্রবাহে নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় অভ্যস্ত হলেও চরম পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সম্পদ সীমিত। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ৩১ হাজার ৪০০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে নাইজেরিয়ায়। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া (১৯,৩০০ জন), সুদান (১৭,৫০০ জন), ভারত (১৫,৮০০ জন) এবং ব্রাজিল (১৩,৩০০ জন)। 

 

এ ছাড়া নাইজেরিয়া, সুদান, নাইজার ও চাদসহ আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলজুড়ে ছয় মাসে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ জন এবং ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে আরও ১৯ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যু হতে পারে। তবে এই পূর্বাভাসে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট খরা, বন্যা, দাবানল ও খাদ্যসংকটের কারণে পরোক্ষ মৃত্যুর হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

 

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মাইকেল গ্রিনস্টোন জানিয়েছেন, তীব্র তাপপ্রবাহ আসার আগেই কোথায় পদক্ষেপ নিলে সর্বাধিক জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করাই এই পূর্বাভাসের মূল উদ্দেশ্য। জীবন বাঁচাতে গবেষকরা তাপপ্রবাহের সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, শীতলীকরণ ও জলপান কেন্দ্র স্থাপন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো, ঘরের বাইরের কর্মীদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। 

 

বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলের তাপমাত্রা ও অতিরিক্ত মৃত্যুহারের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এবং ১৯৯৬-২০২৫ সালের গড় তথ্যের সাথে তুলনা করে এই গবেষণাটি তৈরি করা হয়েছে, যা পিয়ার রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়া হবে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগে থেকেই উষ্ণ হয়ে থাকা পৃথিবীতে এল নিনোর এই প্রভাব ফেব্রুয়ারির পরেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং ২০২৭ সালের শেষের দিকে উত্তর গোলার্ধের উষ্ণ মাসগুলোতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

সূত্র: গালফ নিউজ

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন