আন্তর্জাতিক, ভারত
আপনারা বাংলা নিয়েছেন, আমরা দিল্লী নেব: মমতা ব্যানার্জি

ভ্যানিশ কুমার'কে (ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার) সরে যেতে হবে। যতদিন না উনি যাবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। এই হুঙ্কার দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তবে শুধু ভ্যানিশ কুমার নয়, নির্বাচন কমিশনের ডিজি (তথ্যপ্রযুক্তি) সীমা খান্না সহ সকল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার দাবিও তুলেছেন মমতা।
শনিবার বিকালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে অনুষ্ঠিত একটি দলীয় সভা থেকে এই মন্তব্য করেন 'মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' দলের নেত্রী। গত এপ্রিল-মে মাসে বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের পরে এই প্রথমবার কোনো সভায় উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, 'জোর করে বাংলাকে দখল করতেই এসআইআর করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ার নাম করে ৯২ লাখ মানুষের নাম্বার দিয়েছে। ফলে আমরা হারি নি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে।'
একই সাথে মমতার দাবি, 'নতুন এসআইআর তালিকা বাতিল করে, পুরনো তালিকায় ফের ভোট করতে হবে। যাদের নাম জোর করে বাদ দিয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কারণ মানুষের ভোট কাটার অধিকার, লুট করার অধিকার কমিশনের নেই। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স।'
বিজেপিকে মমতার চ্যালেঞ্জ, 'আমাদের কি হারাবেন? আপনারা জোর করে একটা চেয়ার দখল করেছেন। ওই চেয়ারকে আমরা কেয়ার করি না। ওরা বাংলা নিয়েছে, আমরা দিল্লি নেব।' দিল্লির সরকার ২০২৯ পর্যন্ত টিকবে কিনা তানিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মমতা। তার হুঁশিয়ারি, সবাই রাস্তায় নামছে। চারিদিকে ঝড় উঠেছে।
মমতাকে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দিচ্ছে না বলেও শুভেন্দুর পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তার কটাক্ষ, 'বাংলায় বিজেপির হানিমুন পিরিয়ড, গুন্ডা গদ্দারি অত্যাচারের পিরিয়ড, রুপি লুটের পিরিয়ড চলছে। ওরা কোন রাজনৈতিক দলকে মিটিং করতে দিচ্ছে না। আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয় না।'
মমতা ছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ দোলা সেন, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, সাবেক বিধায়ক প্রতিমা পাত্র, দলের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী সহ অন্যরা।
এদিকে মমতার সভায় যোগ দেওয়ার পথে হামলার শিকার হন মমতা পন্থী বিধায়ক কুনাল ঘোষ। উত্তরপাড়া এলাকায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুনাল ঘোষের গাড়ির উপর ইট, পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তাতে গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে যায়। পাশাপাশি ডিম ছোঁড়া হয় বলেও অভিযোগ। ওই ঘটনার পরে অভিযোগ জানাতে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনে যান তৃণমূল বিধায়ক।
ডিবিসি/ আরএফই