ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রে দুই কূটনৈতিক পান্ডা পাঠাল চীন

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রে দুই কূটনৈতিক পান্ডা পাঠাল চীন

আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রে দুই কূটনৈতিক পান্ডা পাঠাল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

দুই দেশের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মাঝেই প্রতীকী বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে চীন সরকারের উপহার দেওয়া দুই বিরল জায়ান্ট পান্ডা।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চেংদু শহর থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টার বিশেষ বিমানযাত্রা শেষে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে এদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চিড়িয়াখানা ‘জু আটলান্টা’য়। ওয়াশিংটনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হওয়ার মাত্র একদিন পরই এই বিশেষ অতিথিযুগল যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখল।


দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘পান্ডা কূটনীতি’র অংশ হিসেবে এদের পাঠানো হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে দীর্ঘ ২৫ বছরের চুক্তি শেষে আটলান্টার চিড়িয়াখানা থেকে চারটি পান্ডা স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়েছিল বেইজিং। ফলে নতুন এই জোড়াকে নিয়ে মার্কিন মুলুকে আবারও তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নতুন আসা এই দুই পান্ডার মধ্যে পুরুষ পান্ডাটির নাম রাখা হয়েছে ‘পিং পিং’, যার অর্থ ‘শান্তি’। চার বছর বয়সী পিং পিং গাছে চড়তে খুব ভালোবাসে। আর মেয়ে পান্ডাটির নাম ‘ফু শুয়াং’, যার অর্থ ‘দ্বিগুণ আশীর্বাদ’। বয়সে কিছুটা ছোট এই পান্ডাটি মধু খেতে দারুণ পছন্দ করে। বয়স, শারীরিক সুস্থতা, বংশগতি ও শান্ত স্বভাব বিবেচনা করে গবেষকরা এদের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন।


যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে এক মাস ধরে এদের কঠোর পর্যবেক্ষণে বিশেষ নিভৃতবাস ও বিমানযাত্রার খাঁচায় থাকার অভ্যস্তকরণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই পান্ডাদ্বয়ের জন্য আটলান্টার চিড়িয়াখানায় বেশ বড় পরিসরে নতুন বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের প্রিয় খাবার প্রচুর বাঁশ মজুত রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সময়ে সার্বিক দেখভালের জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞ পশু চিকিৎসক ও অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারীদের একটি দল আটলান্টায় অবস্থান করছে। চিড়িয়াখানায় পৌঁছেই নিয়ম অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পান্ডা দুটি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবে।


চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্য নিয়ে যখন জটিল ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে, তখন ঐতিহাসিক এই ‘পান্ডা কূটনীতি’ দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের সময় মাও সেতুংয়ের হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় পিং পিং ও ফু শুয়াং আবারও দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে এগিয়ে নেবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে বেইজিং ও আটলান্টা কর্তৃপক্ষ।


সূত্র: সিএনএন


ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন