ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরেও গাজার মতো যুদ্ধ শুরুর উসকানি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

পশ্চিম তীরেও গাজার মতো যুদ্ধ শুরুর উসকানি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক

পশ্চিম তীরেও গাজার মতো যুদ্ধ শুরুর উসকানি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে সরাসরি ‘যুদ্ধে যাওয়ার’ এবং সেখানে ‘গাজার মতো’ পরিস্থিতি তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কোত’ উপলক্ষে পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এক সপ্তাহব্যাপী কঠোর সামরিক অবরোধ ঘোষণার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এলো।


অধিকৃত পশ্চিম তীরকে বাইবেলের ভাষায় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে স্মোট্রিচ বলেন, ইসরায়েলের উচিত সেখানে যুদ্ধে নামা এবং গাজায় যা করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি করা। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ’ আখ্যা দিয়ে তা ভেঙে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনা কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীকে স্পষ্ট বলে দিতে হবে যে গাজায় যেভাবে হামাসকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেভাবেই পশ্চিম তীরেও কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো, অস্ত্র বা সুড়ঙ্গ থাকতে দেওয়া হবে না।


২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ক্রমাগত বাড়ছে, যা চলতি বছর চরম আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অন্তত ১ হাজার ৩৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন ছয়টি করে ঘটা এই হামলার হার গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের ছত্রছায়ায় বসতি স্থাপনকারীরা সামরিক পোশাক পরে এবং সেনাবাহিনীর দেওয়া অস্ত্র নিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ঘেরাও ও গুলি চালানোর মতো সহিংসতায় লিপ্ত হচ্ছে, যা সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যকার পার্থক্য মুছে দিচ্ছে।


স্মোট্রিচের এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রবিবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করা, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি দখল এবং জোরপূর্বক ভূখণ্ড অধিগ্রহণের যে সরকারি নীতি ইসরায়েল অনুসরণ করছে, স্মোট্রিচের বক্তব্য তারই অংশ। ইসরায়েলের এমন উসকানিমূলক বক্তব্য ও নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমাগত নীরবতা তেল আবিবকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরও উৎসাহিত করছে এবং এটি পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলবে বলেও সতর্ক করেছে ফিলিস্তিন।


এদিকে, সুক্কোত উৎসবকে কেন্দ্র করে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে সর্বাত্মক সামরিক অবরোধ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রবিবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওল্ড সিটি ও আল-আকসা মসজিদের চারপাশে কড়া বিধিনিষেধের মধ্যেই ইসরায়েলি পুলিশের কড়া পাহারায় মরক্কান গেট দিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছে শত শত ইসরায়েলি এবং সেখানে তারা ধর্মীয় আচার পালন করেছে।


সূত্র: আল জাজিরা


ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন