ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

‘নির্বাচনে ভোট গণনার ফলাফল বানচাল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন’

‘নির্বাচনে ভোট গণনার ফলাফল বানচাল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন’

আন্তর্জাতিক

‘নির্বাচনে ভোট গণনার ফলাফল বানচাল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার মিত্ররা ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ বা বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

ভোটের ওপর কড়াকড়ি আরোপের প্রচেষ্টায় আদালতের বাধার মুখে পড়ার পর, ফলাফল নিজেদের পক্ষে না গেলে ভোট গণনার মধ্যবর্তী সময়টিকে তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানোর কাজে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক মার্কিন ফেডারেল কর্মকর্তারা।


মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণী এই নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ছয় সপ্তাহের কম সময়। চলতি মাসের শুরুর দিকে ডাকযোগে ভোটের ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যায়। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা কেইটলিন ডুরকোভিচ চলতি সপ্তাহে ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের এক ব্রিফিংয়ে জানান, স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে গিয়ে আদালতে বারবার হেরে যাওয়ার কারণে প্রশাসন এখন ভোটের দিন শেষে ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ অজুহাত তুলতে পারে। আইনগত বৈধতা থাকুক বা না থাকুক, এই অজুহাতে তারা ভোটের সরঞ্জাম বা ব্যালট জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তার আশঙ্কা। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কিছু অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। ডুরকোভিচের মতে, ফলাফলের জন্য অপেক্ষার এই সময়টিতেই মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বপন করা সহজ হয় এবং দেশি-বিদেশি নানা পক্ষের প্রচারণায় পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি হয়।


ব্রেনান সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ল্যারি নর্ডেন এই পরিস্থিতিকে বর্তমানের সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরবর্তীতে যেন কোনো সাজানো বিতর্ক তৈরি না হয়, সেজন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন থেকেই সাধারণ মানুষকে পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝানোর চেষ্টা করছেন। নর্ডেন জানান, নানা খবরের কারণে অনেকে হয়তো ভাবছেন ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, কিন্তু বাস্তবে আমেরিকার ইতিহাসে ভোট দেওয়ার এত বিকল্প ব্যবস্থা আগে কখনো ছিল না। শঙ্কা এড়াতে তিনি ভোটারদের আগাম ভোট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বেন হোভল্যান্ড জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ব্যালট ছাড়া হয়েছে, যার অর্থ নির্বাচন মূলত শুরু হয়ে গেছে। তবে ভোটের দিনকে ঘিরে ব্যালট বা ভোটিং মেশিনের ওপর ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো ‘জরুরি অবস্থা’ বা বিশেষ ব্যবস্থা ঘোষণার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।


ডাক বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ব্যবহার করে ডাকযোগে আসা ব্যালট যাচাই করার যে উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছিল, নিম্ন আদালতের পর সুপ্রিম কোর্টও তা আটকে দিয়েছে। তবে এনএএসিপি এবং ন্যাশনাল আরবান লিগের মতো নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো এখনো উদ্বিগ্ন। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছে যে, ফেডারেল সরকার হস্তক্ষেপ না করলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন অবৈধ হবে। সাধারণত নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবমুক্ত রাখতে ভোটের ঠিক আগে বিচার বিভাগ এবং এফবিআই একটি ‘নীরব সময়’ পালন করে, কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ভোটার তালিকা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের নথিপত্র সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকায় অ-নাগরিকদের খুঁজতে তারা একটি বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে এক হুইসেলব্লোয়ার (তথ্য ফাঁসকারী) কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, এই কাজে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে যা বেআইনি হতে পারে। হোভল্যান্ডের মতে, অবৈধ ভোটার ও জালিয়াতির এসব ভিত্তিহীন দাবি তুলে মূলত নির্বাচনের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে।


ট্রাম্পের নির্বাচনী বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ। তবে বিশেষজ্ঞরা বিদেশি অপপ্রচার এবং সরাসরি ভোট গণনায় কারচুপির মধ্যে পার্থক্য টেনেছেন। সাবেক ডেপুটি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স বেথ স্যানার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০২০ সালের নির্বাচনে বা অন্য কখনোই কোনো বিদেশি রাষ্ট্র মার্কিন নির্বাচনের কারিগরি প্রক্রিয়ায় বা ভোট গণনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেনি।


এদিকে ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ওঠা ভুয়া অভিযোগের জেরে দেশজুড়ে নির্বাচনী নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যই তাদের ফলাফল নিরীক্ষা করে বলে জানিয়েছেন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) সাবেক কর্মকর্তা জিওফ হেল। তবে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট নিজে বিদেশি হুমকির কথা বললেও ফেডারেল সরকার সিআইএসএ-তে নির্বাচনী নিরাপত্তা খাতে কর্মী ও বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচন কর্মকর্তারা আগে যে কারিগরি সহায়তা এবং সাইবার হুমকি সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিং পেতেন, তা এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন