ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা

পরিবারের হাল ধরতে ছেড়েছিলেন পড়াশোনা, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন ডিপ্লোমা

পরিবারের হাল ধরতে ছেড়েছিলেন পড়াশোনা, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন ডিপ্লোমা
যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা

পরিবারের হাল ধরতে ছেড়েছিলেন পড়াশোনা, ৯৮ বছর বয়সে পেলেন ডিপ্লোমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে

পরিবারের হাল ধরতে মাঝপথেই পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল তাকে। সেই ঘটনার ৮০ বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে ৯৮ বছর বয়সে এসে হাইস্কুল ডিপ্লোমা হাতে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা পল লিটল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নার্সিং হোমে গিয়ে তাকে চমকে দিয়ে তার হাতে এই সনদ তুলে দেন তারই পুরোনো স্কুলের কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম সিবিএস ১৯-এর খবরে বলা হয়েছে, আইওয়ার গ্রাইমস শহরের ডালাস সেন্টার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন পল লিটল। ১৯৪৬ সালে তার হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পরিবারের ভরণপোষণের তাগিদে জুনিয়র ইয়ারে থাকাকালীনই তাকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামতে হয়। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী গাথরি কাউন্টিতে দীর্ঘ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবন কাটান তিনি।


নিজের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ না পেলেও পল এবং তার প্রয়াত স্ত্রী এলিনর সবসময়ই স্থানীয় শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। গাথরি কাউন্টির প্যানোরামা স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট কেসি হিউবনার জানান, গত ১৫ থেকে ১৮ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের জীবনের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছেন পল। পরবর্তীতে নিজ শহরের একটি নার্সিং হোমে ওঠার পর নিজের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডালাস সেন্টার হাইস্কুলের শিক্ষা তহবিলে (ডিসিজি এডুকেশন ফাউন্ডেশন) ৫০ হাজার ডলার অনুদান দেন তিনি। তার এই অর্থ থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা শেষ করতে সহায়তা করেছে পলের তহবিল।


প্রায় আট দশক ধরে সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে পলের এই নিঃস্বার্থ অবদানের কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাকে সম্মানসূচক এই ডিপ্লোমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ডালাস সেন্টার-গ্রাইমস কমিউনিটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ। ডিস্ট্রিক্ট সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্লাম বলেন, পলের মতো একজন অসাধারণ মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে পেরে তারা আনন্দিত। তাকে এই সম্মানসূচক ডিপ্লোমা দেওয়াটা ছিল মূলত তাকে ধন্যবাদ জানানোর একটি উপায় এবং তার এই অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে।


অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের এই অনুদান প্রসঙ্গে পল লিটল জানিয়েছেন, সমাজের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা তার জন্য কখনোই কঠিন ছিল না। তার মতে, স্কুলের বাচ্চাদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র: পিপল ডটকম

ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন