আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ৩, আহত ১০ জনেরও বেশি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
কিয়েভের আঞ্চলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানায়, সোফিভস্কা বোরশচাহিভকা গ্রামের একটি বাজারে ড্রোন আঘাত হেনেছে। এছাড়া এই অঞ্চলে বেশ কিছু যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি গুদাম ও একটি অফিস ভবনে আগুন ধরে যায়।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, শনিবার থেকে রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের ২৭৭টি হামলাকারী ড্রোন ছুড়েছে। এই হামলায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত একটি ভবনসহ পুরো ইউক্রেনজুড়ে বেসামরিক ও সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় কিন্ডারগার্টেন, স্কুল, একটি আবাসিক ভবন, গাড়ি মেরামতের দোকান, গুদাম এবং যোগাযোগ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া দিনিপ্রোতে একটি ক্রীড়া বিদ্যালয় এবং সুমি অঞ্চলে একটি শিশু নিবাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, এর পেছনে রাশিয়ার কোনো ধরনের সামরিক উদ্দেশ্য নেই। এটি পুরোপুরি মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং ইউক্রেনের সমাজের যতটা সম্ভব ক্ষতি করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। তার মতে, যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপগুলো বিলম্বিত করতে বিশ্ব যা শুনতে চায়, রাশিয়া ঠিক সেই ধরনের কূটনৈতিক সংকেত দিতে ভালোভাবেই জানে।
ইউক্রেনের মিত্রদের মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া বিশেষ করে মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের কাছে উত্তেজনা কমানোর দাবি করলেও তারা যদি সত্যিই কোনো বাস্তব পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিত, তবে ‘শাহেদ’ ড্রোনের এই সন্ত্রাস চলত না। তিনি জানান, রুশ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ চেইন, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং মূলত রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বদলাতে এবং রাশিয়াকে প্রকৃত কূটনীতির পথে বাধ্য করতে আগামী অক্টোবরের শুরুতেই এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, তারা কেবল সামরিক অবকাঠামো ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানে। এর আগে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, তাদের বাহিনী কিয়েভ ও ওদেসায় যোগাযোগ ও লজিস্টিক স্থাপনার পাশাপাশি ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু
ডিবিসি/ এসভিএন