সারা বাংলা
শরীয়তপুরে টিনের চালা কেটে বিদ্যালয়ে চুরির অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে সারেং কান্দি মতিউর রহমান সরদার উচ্চ বিদ্যালয়ে টিনের চালা কেটে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা লাইব্রেরিকক্ষে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে এবং বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের সারেং কান্দি এলাকার ওই বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিদ্যালয়ে এসে লাইব্রেরির চালার টিন কাটা এবং কক্ষের ভেতরের মালামাল তছনছ অবস্থায় দেখতে পান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার পাঠদান শেষে লাইব্রেরিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে বাড়ি যান দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সকালে এসে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা চালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নথিপত্রের পাশাপাশি তারা বিদ্যালয়ের ছুটির ঘণ্টাটিও নিয়ে গেছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক আরিফ হোসাইন বলেন, ‘এর আগেও আমাদের বিদ্যালয়ে কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণ, ভাঙচুর ও তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ এসেছে। একটি কুচক্রী মহল এই উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত করতে ধারাবাহিকভাবে এমন অপকর্ম চালাচ্ছে।’
বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোহাম্মদ আলী জানান, সকালে এসে তিনি লাইব্রেরির চালার টিন কাটা এবং ভেতরে আসবাবপত্র ও কাগজপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় দেখতে পান।
এদিকে স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, এলাকার আধিপত্য ও বিরোধের জের ধরে সুমন খান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির অনুসারীরা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল হামিদসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মতিউর রহমান সরদারের সঙ্গে সুমন খানের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। স্কুলে প্রভাব বিস্তার ও উন্নয়নকাজ ব্যাহত করতে এর আগেও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন খান দাবি করেন, বিদ্যালয়ের ভাঙচুর কিংবা চুরির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে তাঁর ব্যক্তিগত কিছু ক্ষোভ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
ডিবিসি/এমএনকে