ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

ভারত

ভারতের ঘটনা

জলাশয় থেকে বর্জ্য কুড়িয়েই সংসার চালাচ্ছেন ৭৫ বছরের রাজাপ্পন

জলাশয় থেকে বর্জ্য কুড়িয়েই সংসার চালাচ্ছেন ৭৫ বছরের রাজাপ্পন
ভারতের ঘটনা

জলাশয় থেকে বর্জ্য কুড়িয়েই সংসার চালাচ্ছেন ৭৫ বছরের রাজাপ্পন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানে, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন কেরলের কোট্টায়াম জেলার মঞ্জনিক্কারা গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছরের এন এস রাজাপ্পন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিওতে আক্রান্ত হয়ে হাঁটুর নীচের অংশের কর্মক্ষমতা হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দুই হাতের ওপর ভর করেই বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভেম্বানাদ হ্রদ ও মীনচিল নদী থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কারের এক অক্লান্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

প্রতিদিন ভোরবেলা গ্রামবাসী ঘুম থেকে ওঠার আগেই তিনি হামাগুড়ি দিয়ে নদীর ধারে পৌঁছে যান। এরপর নিজের নৌকায় চেপে শুরু হয় তাঁর জীবন সংগ্রাম।

নদী ও হ্রদের জলে ভেসে থাকা প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করতে প্রতিদিন প্রায় ১৭ ঘণ্টা কাজ করেন রাজাপ্পন। সারাদিন ধরে সংগৃহীত প্রায় চার বস্তা বোতল শুধু কুড়িয়েই তাঁর কাজ শেষ হয় না; সেগুলি পরিষ্কার করে, শুকিয়ে সযত্নে গুছিয়ে রাখেন তিনি। 

 

কয়েক মাস পর পর স্থানীয় একটি সংস্থা এসে মাত্র ১২ টাকা প্রতি কেজি দরে সেগুলি কিনে নিয়ে যায়, আর এই সামান্য আয়েই চলে তাঁর সংসার। শারীরিক অক্ষমতার কারণে নিয়মিত মজুরির কাজ করতে পারতেন না বলে নিজেই এই কাজ বেছে নেন তিনি। রাজাপ্পন জানান, রাস্তায় হাঁটার চেয়ে নৌকা চালানো তাঁর কাছে অনেক সহজ। জলের ধারেই যাঁর বেড়ে ওঠা, সেই জলকে দূষণমুক্ত রাখাই তাঁকে আনন্দ জোগায়।

 

২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাড়িটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। জমানো সমস্ত আবর্জনা জলে ভেসে যাওয়ায় তিনি সাময়িক হতাশ হয়ে পড়েন। সেই সময় কারও কাছে সাহায্য না চেয়ে তিনি বেশ কয়েক সপ্তাহ নিজের নৌকাতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভগ্নপ্রায় বাড়িতে একা থাকা রাজাপ্পনের খাদ্যের জোগান দেন তাঁর বোন এবং স্থানীয় কিছু সহৃদয় বাসিন্দা। কোভিড আবহে পর্যটক কমে যাওয়ায় জলাশয়ে প্লাস্টিকের পরিমাণ কমে গিয়েছিল। এতে তাঁর আয় তলানিতে ঠেকলেও, হ্রদের জল পরিষ্কার থাকায় তিনি খুশি প্রকাশ করেন।

 

বছরখানেক আগে কোট্টায়ামের চিত্রগ্রাহক নন্দু কেএস তাঁর এই নিঃস্বার্থ কাজের একটি ছোট ভিডিও ইউটিউবে প্রকাশ করলে তা সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই রাতারাতি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বহু মানুষ। তিনি উপহার পান নগদ অর্থ, একটি মোটরচালিত হুইলচেয়ার এবং তাঁর বহুদিনের স্বপ্নের একটি মোটরবোট। তাঁর এই নিঃস্বার্থ লড়াই দেশের সর্বোচ্চ স্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে বিশেষ ভাবে সক্ষম রাজাপ্পনের এই নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তাঁর কাজের প্রশংসা করে তাইওয়ান সরকারও।

 

এত সম্মান ও প্রাপ্তির মাঝেও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতে ভালোবাসেন এই বৃদ্ধ। পরিবেশ রক্ষাকর্তা হিসেবে দীর্ঘ ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করা রাজাপ্পন একদিনও ছুটি নেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি শুধু মাথার উপর একটু ছাদ চান এবং আমৃত্যু সেখানেই সুখে থাকতে চান। পরিবেশ রক্ষায় রাজাপ্পনের এই সরল ও নিঃস্বার্থ জীবনদর্শন আজ গোটা দেশের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন