আন্তর্জাতিক
পুতিনের নির্দেশে রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যুক্ত হলো আরও ১৫ হাজার ৫০০ কর্মী

ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি কার্যত থমকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর সই করা নতুন এক ডিক্রি অনুযায়ী, রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে আরও ১৫ হাজার ৫০০ কর্মী যুক্ত হতে যাচ্ছে।
এ নিয়ে চলতি বছর চতুর্থবারের মতো রুশ সেনাবাহিনীর আকার বৃদ্ধি করা হলো। গত মার্চ মাস থেকে এই ধারাবাহিক আদেশের মাধ্যমে মোট ৪৭ হাজার ৮৬০ জন সামরিক সদস্য যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন ডিক্রিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর অনুমোদিত কর্মী সংখ্যা হবে ২৪ লাখ ৪১ হাজার ৬৩০ জন, যার মধ্যে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ জন থাকবেন সামরিক কর্মী। তবে ঠিক কী কারণে এই অতিরিক্ত সৈন্যের প্রয়োজন বা কীভাবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি এবং সীমিত আঞ্চলিক লাভের কারণেই পুতিন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের মহাপরিচালক আন্দ্রেই কর্তুনভ এটিকে একটি 'প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত' বলে আখ্যায়িত করলেও, ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য মানবসম্পদ বাড়ানোর অব্যাহত প্রচেষ্টারই অংশ।
অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কাওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সেনা বৃদ্ধির সাথে শুধু ইউক্রেন যুদ্ধ নয়, ন্যাটোর সাথে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সামরিক শক্তির মোকাবিলার মতো দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত বিষয়ও জড়িত। এর মাঝেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, আট হাজারেরও বেশি উত্তর কোরিয়ার সৈন্য বর্তমানে রাশিয়ায় রয়েছে এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে, যা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে, রণক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের ওপর বড় ধরনের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কিয়েভের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি ইউক্রেনের অর্থনীতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের কৌশল নিয়েছে মস্কো। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চালালেও, দখলকৃত অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নে মৌলিক মতপার্থক্য থাকায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
সূত্র: আলজাজিরা
ডিবিসি/এমএনকে