ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

কৃষি

গোপালগঞ্জে তিন হাজার পরিবারের আয়ের উৎস এখন বিলের শাপলা ফুল

গোপালগঞ্জে তিন হাজার পরিবারের আয়ের উৎস এখন বিলের শাপলা ফুল

কৃষি

গোপালগঞ্জে তিন হাজার পরিবারের আয়ের উৎস এখন বিলের শাপলা ফুল

বাসস

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা মূলত একটি বিল অধ্যুষিত এলাকা। বর্ষা মৌসুম আসতেই এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। আর এই থৈ থৈ পানিতে কোনো রকম চাষাবাদ ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে জন্ম নেয় জাতীয় ফুল শাপলা। বর্ষার এই অলস সময়ে বিলের শাপলাই এখন কাশিয়ানী উপজেলার প্রায় তিন হাজার মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

বর্ষা মৌসুমে এলাকার কৃষকদের তেমন কোনো কাজ থাকে না। ফলে অনেক কৃষক, বেকার যুবক এবং অন্যান্য পেশার শ্রমজীবী মানুষ এখন বিল থেকে শাপলা সংগ্রহের পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই শাপলা যেমন একদিকে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে বর্ষাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য তৈরি করেছে আয়ের বিকল্প পথ। কোনো রকম পুঁজির প্রয়োজন হয় না বলে এই পেশাকে বেশ লাভজনক মনে করছেন স্থানীয়রা।


উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া ও শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে খুব ভোরেই নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। মূলত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও আমন ধানক্ষেতে শাপলা বেশি জন্মায়। সেখান থেকে শাপলা সংগ্রহ করে ভোরের আলো ফুটতেই চাষিরা ছুটে যান উপজেলার রাহুথড়ে গড়ে ওঠা শাপলার পাইকারি বাজারে।


প্রতিদিন সকালে শাপলা সংগ্রহকারী ও পাইকারদের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে রাহুথড় বাজার। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নৌকার শাপলায় ছেয়ে যায় পুরো বাজার এলাকা। রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার শংকর কুমার বসু জানান, প্রতিদিন সকাল হতেই এখানে শাপলা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন যোগে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, খুলনা, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, লোহাগড়া, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়ায় নিয়ে যান। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গাড়ি শাপলা এই বাজার থেকে বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।


দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে শাপলা বিক্রি করে সংসার চালানো গোবিন্দ বিশ্বাস নামের এক সংগ্রহকারী জানান, প্রতিদিন ভোরবেলা বিল থেকে শাপলা তুলে তিনি রাহুথড় বাজারে পাইকারি দরে বিক্রি করেন। প্রতিদিন শাপলা বিক্রি করে তার প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয়, যা দিয়ে বর্ষার দিনে তার সংসার খুব ভালোভাবে চলে যায়।


কাশিয়ানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. এজাজুল করীম জানান, কাশিয়ানীর বিলাঞ্চলে বর্ষাকালে কোনো ফসল হয় না বলে কৃষকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। শাপলা একদিকে যেমন মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে এই কর্দমাক্ত সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। কোনো রকম চাষাবাদ ও পুঁজি ছাড়াই উপজেলার প্রায় তিন হাজার পরিবার শাপলা সংগ্রহ ও বিক্রি করে তাদের সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন, যা গ্রামীণ কর্মসংস্থানের এক অনন্য উদাহরণ।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন