রাজধানী
সিলেটে এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করবে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

তরুণ প্রজন্মকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে সিলেটে কয়েকটি এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে জালালাবাদ ছাত্রকল্যাণ সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, এ কার্যক্রম প্রথমে সিলেট জেলা থেকে শুরু করে পরবর্তীতে বিভাগের অন্যান্য জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। এর মূল লক্ষ্য তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং ও আন্তর্জাতিক আইটি খাতের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সুযোগ বৃদ্ধি করা। সিলেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে বহু তরুণ প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করছেন; শীর্ষ পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের আয় আরও বেশি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়ে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাজ বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তব্যে টেকসই উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকার এ দুটি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে উভয় খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জাতীয় গড়ের তুলনায় অঞ্চলটির সাক্ষরতার হার, বিদ্যালয়ের সংখ্যা, পাসের হার ও প্রাথমিক শিক্ষার মান পিছিয়ে রয়েছে। তবে এটি মেধার ঘাটতির কারণে নয়; বরং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ফল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিলেটের মানুষের সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি এ সীমাবদ্ধতা দূর করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব ও গবেষণায় দক্ষ হয়ে ওঠার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া সিলেট বিভাগের তিন জেলার শিক্ষার্থীদের বরণ এবং শিক্ষা সমাপনকারী শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহসভাপতি শাকেরা বখসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইউম চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আলী মোহাম্মদ কাওছার, দৈনিক ‘আগামীর সময়’-এর সম্পাদক মোস্তফা মামুন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী ও ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।