আন্তর্জাতিক
সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ সেনা আহত, উত্তর কোরিয়াকে ক্ষমা চাইতে বলল সিউল

দুই কোরিয়ার মধ্যকার অসামরিক অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ৩ সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পিয়ংইয়ংকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই দেশের বাফার জোন হিসেবে পরিচিত ডিএমজেডের পশ্চিমাংশে সামরিক সীমারেখার কাছাকাছি এলাকায় দুটি পৃথক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৩ সেনা সদস্য আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অপারেশন্স ডিরেক্টর কাং হিউনউ জানান, এই বিস্ফোরণ ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দুই কোরিয়ার মধ্যকার সমঝোতার পরিপন্থী। পূর্ণাঙ্গ তদন্তে উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে উপযুক্ত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাং শিন-চুল।
এদিকে যৌথ তদন্তের পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ড (ইউএনসি) জানিয়েছে, সামরিক সীমারেখার দক্ষিণ কোরিয়ার অংশে সক্রিয় একটি উত্তর কোরীয় ব্যক্তিবিরোধী ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ঘটনা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
তবে সিউলের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বিষয়টিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পরিকল্পিত নাটক বলে আখ্যা দিয়েছেন। উসকানি তৈরির উদ্দেশ্যেই সিউল এমন মনগড়া দাবি তুলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাদের কোনো সেনা কখনোই সীমান্ত পার হয়নি। সীমান্তে স্থায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা নির্মাণের কাজে থাকা উত্তর কোরীয় সেনাদের লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়া ফাঁকা গুলি ছুড়ে সতর্কবার্তা দেয়ারও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। কিম ইয়ো জং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে তাদের সেনাদের ওপর কোনো ধরনের গুলি চালানো হলে সীমান্ত ইউনিটগুলো তাৎক্ষণিক ও নির্দয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/ এসভিএন