ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

শিক্ষা

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবিরের সাথী পদ হারিয়েছেন আম্মার

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবিরের সাথী পদ হারিয়েছেন আম্মার

শিক্ষা

পদ বাণিজ্যের অভিযোগে শিবিরের সাথী পদ হারিয়েছেন আম্মার

রাবি প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে রাজশাহী নগর ভবন থেকে ল্যাপটপ চুরি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্রসংগঠনে পদ বাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম ও 'নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণের' অভিযোগ এনে পদ স্থগিত করে শিবির। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অভিযোগের জবাব দিতে না পারায় তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয় সংগঠনটি।

 

সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান সভাপতির স্বাক্ষরিত তিনটি চিঠিতে তার শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং পদ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই তিনটি চিঠি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। শিবিরের বর্তমান দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

চিঠির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথী পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় রাবি শাখা ছাত্রশিবির। এর আগে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

 

ওই চিঠিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগসহ আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সংগঠনের নজরে আসে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের অভিযোগ আমলে নিয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার সাথীপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

 

এরপর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শাখা ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত আরেক চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং তাকে বারবার সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পরও সংশোধন না হওয়ায় সালাহউদ্দিন আম্মারের সাথীপদ বাতিল করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চিঠিতে আগের সিদ্ধান্তগুলোর উল্লেখ করা হয়। আম্মারের অনলাইন ও অফলাইন কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া না দেখাতে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের তার সঙ্গে দাপ্তরিক সর্ম্পক রাখার এবং অন্যদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধও করা হয়।

 

শিবিরের সঙ্গে আম্মারের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেউ বহিষ্কার হলে এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করার নিয়ম নেই। কারণ মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। তিনি তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে শিবিরের সাথী পদে যুক্ত ছিলেন। কোডিং সিস্টেমে এখানে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তার ছাত্রশিবিরের সঙ্গে ক্যাম্পাসে সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সেই জায়গা থেকেই জুলাই আন্দোলনে তাকে বিভিন্নভাবে প্রটোকল ও আশ্রয় দিয়েছে শিবির। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি ও ইসলামী পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সঠিক জবাব দিতে না পারায় সেপ্টম্বরে তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।’ শিবির থেকে বহিষ্কার হওয়ায় আম্মারের সঙ্গে সংগঠনটির সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

 

নাম প্রকাশ না করা শর্তে শিবিরের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ‘তিনটি চিঠিই সঠিক। তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বহিষ্কার হওয়ায় তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’

 

এ বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন