বাংলাদেশ, সারা বাংলা
কক্সবাজারে আবাসিক হোটেল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পরিচয়ের যুবক পলাতক

কক্সবাজার শহরে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে গলাকাটা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে স্বামী পরিচয়ে ওই নারীর সঙ্গে হোটেলে ওঠা যুবক ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, পরকীয়া প্রেমিকই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন একটি আবাসিক হোটেলের বাথরুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী।
নিহত কুলসুমা আক্তার (২৬) ঈদগাঁও উপজেলার চাঁন্দেরঘোনা এলাকার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে এবং একই এলাকার মোহাম্মদ হারুনের স্ত্রী।
পুলিশ জানায়, নিহত গৃহবধূর সঙ্গে হোটেলে ওঠা যুবক কক্ষ বুকিংয়ের নথিতে নিজের নাম ‘মোহাম্মদ আরফান’ উল্লেখ করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ওই নামে কাউকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন।
স্বজনদের বরাতে ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী হারুনের বিরুদ্ধে কুলসুমা আক্তারের দায়ের করা একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বুধবার ওই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। সকালে তিন বছরের শিশুসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে কুলসুমা আদালতে হাজিরা দিতে আসেন।
ওসি আরও বলেন, ‘বুধবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন এলাকার ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ নামের আবাসিক হোটেলের কক্ষে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষের বাথরুম থেকে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’
তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই ওই নারীর সঙ্গে থাকা যুবক পলাতক। নিহত নারীর পরিবারের সদস্যরাও তার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পলাতক যুবক তার পরকীয়া প্রেমিক হতে পারে।
তবে আদালতে হাজিরা দিতে এসে ওই গৃহবধূ কখন কীভাবে ওই হোটেলে পৌঁছালেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ডিবিসি/ এসভিএন