আন্তর্জাতিক, আমেরিকা
শুধু নিজেদের ব্যথার কথাই বললেন ট্রাম্প, মুখে নেই ধ্বংসস্তূপ ইরাকের কথা

ইরাক থেকে শেষ পর্যন্ত সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়াকে ‘আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক দিন’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২৩ বছরের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে গিয়ে তার পুরো বক্তব্যেই শুধু স্থান পেয়েছে আমেরিকার ক্ষয়-ক্ষতির খতিয়ান।
তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ এই সময়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন আরও শত শত বেসামরিক ঠিকাদার। কিন্তু এই দীর্ঘ লড়াইয়ের সবচেয়ে নির্মম শিকার যে ইরাকের সাধারণ মানুষ, তাদের ত্যাগের কথা পুরোপুরি এড়িয়ে গেছেন তিনি।
স্বতন্ত্র যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ইরাক বডি কাউন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ইরাকি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি কারণ বহু নিহতের তথ্য কোনো হিসাবেই নথিভুক্ত হয়নি। শুধু প্রাণহানিই নয়, দুই দশকের বেশি সময়ের সংঘাত আর পরবর্তীতে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উত্থানের কারণে লাখ লাখ ইরাকি দেশের ভেতরে ও বাইরে উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হয়েছেন।
ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘ভুল সিদ্ধান্তকেই’ দীর্ঘদিন ধরে দায়ী করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের মতো কোনো ত্রুটি এখানে রাখা হয়নি, এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে সমস্ত মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পুরোপুরি গুটিয়ে আনা হয়েছে। এমনকি নিজের সেই কড়া নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মাটিতে একটি সাধারণ স্ক্রু পড়ে থাকলেও তা যেন ফেরত নিয়ে আসা হয়- সেই নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু সামরিক সরঞ্জাম নিখুঁতভাবে ফেরত নিয়ে আসার এই আত্মতৃপ্তির মাঝেও আড়ালেই রয়ে গেল যুদ্ধের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি গোটা দেশের মানবিক বিপর্যয়।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/ এসভিএন