সাক্ষাৎকার
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে জোর দিয়েছে সরকার
.webp)
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় জোর দিয়েছে সরকার। বিভিন্ন দেশে সম্পদ শনাক্ত ও জব্দের পর সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে সেগুলো উদ্ধারের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ মামুন জানিয়েছেন, পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) আওতায় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বিএফআইইউ প্রধান জানান, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশি সম্পদ উদ্ধারে লন্ডনের একটি আদালতে তাঁকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করা এ আবেদন মঞ্জুর হলে তাঁর সম্পদ বিক্রি করে বকেয়া ঋণ পরিশোধ শেষে বাকি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোকে ফেরত দেওয়া হবে। এছাড়া সিঙ্গাপুরে থাকা তাঁর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়েও আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জার্সিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৩ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ উদ্ধারেও যোগাযোগ চলছে।
তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০টি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশে-বিদেশে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ইতিমধ্যে আদালতের আদেশে জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার কোটি এবং বিদেশে রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার সম্পদ।
বর্তমানে বিএফআইইউ ১১টি বড় অর্থ পাচারের মামলা নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে হুন্ডি, অনলাইন জুয়া ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নতুন করে অর্থ পাচার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি এবং আন্তঃসংস্থা স্টিয়ারিং কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিবিসি/এমএনকে