আন্তর্জাতিক
বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের ফি ২০ গুণ বাড়াল জাপান

বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) ফি একলাফে ২০ গুণ বাড়িয়েছে জাপান। নতুন নিয়মে এই ফি বাড়িয়ে ২ লাখ জাপানি ইয়েন (প্রায় ১,২৭০ মার্কিন ডলার) নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের আবেদনের ক্ষেত্রে আয়, পেনশন ও ভাষা দক্ষতার মতো একাধিক নতুন ও কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে দেশটির সরকার।
ফি বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই জাপানের অভিবাসন দপ্তরগুলোর সামনে আবেদনকারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। নিয়ম কার্যকরের আগেই আবেদন জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ায় টোকিওর প্রধান অভিবাসন দপ্তরে সেবাগ্রহীতাদের সাত ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে আনা ধারাবাহিক সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে গত জুলাই মাসে দেশটি সব ধরনের ভিসা ফি পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করে, যা ছিল গত ৫০ বছরে প্রথম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার কারণেই এই ফি সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে শুধু স্থায়ী বসবাসের ফি-ই নয়, অস্থায়ী বাসিন্দাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ব্যয়ের পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে আবেদন প্রতি ৬ হাজার ইয়েন নেওয়া হতো, ১ অক্টোবর থেকে তা মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ১০ হাজার (তিন মাস বা কম সময়ের জন্য) থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ইয়েন (পাঁচ বছর বা বেশি সময়ের জন্য) নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হবে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের অবশ্যই জাপানের গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশটিতে গড় পারিবারিক আয় ছিল প্রায় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন। এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিল থেকে আবেদনকারীদের জাপানি ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পেনশনের শর্তও পূরণ করতে হবে। এর প্রভাবে দেশটিতে জাপানি ভাষা স্কুল ও দক্ষতা পরীক্ষায় নিবন্ধনের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।
এদিকে সরকারের এমন পদক্ষেপে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী নাগরিকরা। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে টোকিওতে বসবাসকারী ৩৭ বছর বয়সী মিকাইয়া স্টিভেন্স বিবিসিকে বলেন, ‘বিদেশিদের সাথে সুবিধাবাদী আচরণ করা হচ্ছে। কাজ করা ও কর দেওয়ার সুযোগ পেতেই গড় জাপানির চেয়ে বেশি আয় এবং বিপুল পরিমাণ ফি দিতে বলা হচ্ছে। ভাষা ও সংস্কৃতির জটিলতার পর এমন সিদ্ধান্ত প্রতিভাবানদের জাপানে আসা আরও নিরুৎসাহিত করবে।’
বৃদ্ধ জনগোষ্ঠীর কারণে সৃষ্ট তীব্র শ্রমঘাটতি মেটাতে জাপান যখন বিদেশি কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভর করছে, তখনই অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা হলো। ২০২৫ সাল শেষে দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৯.৫ শতাংশ বেড়ে ৪১ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছায়। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতেই অভিবাসন নীতিতে এই কড়াকড়ি আনা হয়েছে বলে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জানান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
ডিবিসি/এমএনকে