আন্তর্জাতিক, ভারত
১০ দিনে ৪টি যৌন নিপীড়নে দিল্লিতে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ‘পিংক ফোর্স’

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নাবালিকাদের ওপর ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের চারটি পৃথক ভয়াবহ ঘটনা সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল, কলেজ, মেট্রো স্টেশনসহ রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে টহল দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত নারী পুলিশ সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ ‘পিংক ফোর্স’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তারানজিৎ সিং সান্ধু গোয়া পুলিশের ‘পিংক ফোর্স’-এর আদলে এই বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দেন। প্রস্তাবিত এই বাহিনীটি মূলত নারীদের জন্য সংবেদনশীল বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে মোতায়েন থাকবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিতে নারী নির্যাতনের কয়েকটি নারকীয় ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে সোমবার কালকাজি মন্দিরের কাছে আস্থা কুঞ্জ পার্কে। সেখানে পুলিশ পরিচয়ে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে তার ছেলে বন্ধুর কাছ থেকে আলাদা করে তিন ব্যক্তি মিলে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির সময় এক অভিযুক্ত পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সদর বাজারে এক নাবালিকা, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্য দিল্লির কিষাণগঞ্জে ছয় বছরের এক শিশু এবং চলতি মাসের শুরুতে স্বরূপ নগরে ১৬ বছরের আরেক কিশোরী গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়।
দিল্লি পুলিশ এর আগেও জনবহুল স্থানে স্কুটারে নারী অফিসারদের টহল জোরদার করেছিল। তবে নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে এই টহল ব্যবস্থাকে একটি সুনির্দিষ্ট ‘পিংক ফোর্স’ কাঠামোর অধীনে আনা হচ্ছে। বাহিনীটি প্রকাশ্যে নারীদের হয়রানি রোধে চলমান ‘অপারেশন শিষ্টাচার’-এর পাশাপাশি কাজ করবে।
‘পিংক ফোর্স’ গঠনের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি পুলিশের 'জন শুনানি' কর্মসূচির সময় পাওয়া অভিযোগগুলো ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেগুলোর সমাধান করা। এছাড়া অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে টহল বাড়ানো এবং প্রতিটি থানায় একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করে পকসো (POCSO) আইন, শিশু সুরক্ষা ও সাইবার অপরাধ বিষয়ে স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ‘পিংক ফোর্স’ গঠন প্রক্রিয়াটি বর্তমানে পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা, চালুর তারিখ বা জেলাভিত্তিক মোতায়েনের বিস্তারিত রূপরেখা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এমএনকে