আন্তর্জাতিক
যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটির ঘটনায় ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেফতার

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ঘটনার তদন্তে এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ।
যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে সংঘটিত ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে ২৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককেও পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ব্যবহার করে আসছে। এমনকি গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটি কাজে লাগাচ্ছে ওয়াশিংটন।
এর আগে গত রবিবার একই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে লন্ডনের ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী পাঁচ যুবককে বিস্ফোরক আইন লঙ্ঘন ও সন্ত্রাসবাদের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল; তবে পরে তাদের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সিনিয়র ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেটর ভিকি ইভান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “গ্লুচেস্টারশায়ারের ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্তের কাজটি অত্যন্ত জটিল এবং আমাদের বিশেষজ্ঞ দলগুলো অনুসন্ধানের একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে। আমরা স্পষ্ট জানিয়েছি, সম্ভাব্য বিদেশি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাসহ সব ধরনের দিকই আমরা বিবেচনায় রাখছি।” পুলিশ মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে ঘাঁটির কাছে পার্ক করা সন্দেহভাজন গাড়িগুলোতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবে সেখান থেকে বেশ কিছু পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মন্তব্য করেন যে এই নিরাপত্তা ঘটনার পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততার ‘দৃঢ় ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ তীব্র ভাষায় অস্বীকার করেছে তেহরান। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মূলত ‘ভুল জায়গায় মাথা ঠুকছে’। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও দাবি করেছে, ঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানকে জড়ানোর চেষ্টা নিতান্তই ‘মনগড়া জল্পনা-কল্পনা’, যা কেবল ‘ইরানভীতি’ ছড়ানোর অপপ্রচারের অংশ।
ঘটনাটি ঘিরে এখনও স্পষ্ট তথ্যের অভাব রয়েছে। লন্ডনে থাকা বিশ্লেষকদের মতে, এটি ষষ্ঠ ব্যক্তির গ্রেপ্তার হলেও সন্দেহভাজনের জাতীয়তা ছাড়া ইরান সরকারের সরাসরি যোগসূত্রের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো অভিযোগপত্রও গঠন করা হয়নি। উল্লেখ্য, গত মার্চ থেকে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ব্যবহার করে ইরানে মার্কিন বিমান হামলার অনুমতি দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানতেও এই ঘাঁটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুলাইয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, যেসব ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর আক্রমণ চালানো হবে, সেগুলোকে তেহরান তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডিবিসি/ এসভিএন