ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা

স্বামীর খোঁজে গুগল ফর্ম বানালেন নারী, আবেদন পড়ল ২৪০টির বেশি

স্বামীর খোঁজে গুগল ফর্ম বানালেন নারী, আবেদন পড়ল ২৪০টির বেশি
যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা

স্বামীর খোঁজে গুগল ফর্ম বানালেন নারী, আবেদন পড়ল ২৪০টির বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহরের বাসিন্দা ৩৬ বছর বয়সী সিঙ্গেল নারী এরিন প্যাটারসন জীবনসঙ্গী খুঁজতে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছেন। নিজের মনের মতো স্বামী খুঁজে পেতে তিনি একটি বিস্তারিত ‘হাসব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন’ বা স্বামীর আবেদনপত্র তৈরি করেছেন, যা ইন্টারনেটে বেশ সাড়া ফেলেছে।

আগস্টের শেষের দিকে তিন পৃষ্ঠার একটি গুগল ফর্ম নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে পিন করে রাখেন এরিন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়লে রীতিমতো আবেদনের বন্যা বয়ে যায়। এক মাসের এই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি ২৪১টি আবেদন এবং প্রায় এক থেকে দেড় হাজার ডাইরেক্ট মেসেজ (ডিএম) পেয়েছেন।


‘সো...ইউ আর ইন্টারেস্টেড?’ শিরোনামের ওই ফর্মে এরিন নিজেকে মানুষের সাথে মিশতে ভালোবাসেন এমন একজন হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আশাবাদী, প্রাণবন্ত, সদয় এবং খাঁটি স্বভাবের। তাছাড়া সদ্য মাস্টার্স পাস করা এই নারী শিখতে ও বিকশিত হতে ভালোবাসেন। পাত্রের যোগ্যতার বিষয়ে তিনি কিছু নির্দিষ্ট শর্তও দিয়েছেন। পাত্রের বয়স ২৮ থেকে ৪৭ বছরের মধ্যে হতে হবে, তাকে খ্রিষ্টান, সিঙ্গেল এবং স্বামী ও বাবা হওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। এছাড়া ব্যাচেলর ডিগ্রি এবং উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি হওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এরিন নিজেও বেশ লম্বা, খালি পায়ে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং হাই হিল পরলে ৬ ফুট।


নিজের ফর্মে এরিন লিখেছেন, ‘আমি এমন একজন সুদর্শন, বুদ্ধিমান, দয়ালু, বিশ্বস্ত এবং উদার মানুষের সাথে পরিচিত হতে আগ্রহী, যার কফি ডেট, ডিনার ডেট, ভালো আড্ডা দেয়া এবং সম্পর্কটা কোন দিকে যাচ্ছে তা দেখার আগ্রহ আছে।’


এরিন পেশায় ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনা শার্লট-এর স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর। ২০১৯ সালে তার একটি বাগদান ভেঙে যায় এবং মহামারির পর নতুন করে শুরু করতে তিনি এই শহরে চলে আসেন। গত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি পুরোপুরি সিঙ্গেল। তবে তার বাবা-মায়ের ৪৪ বছরের সফল দাম্পত্য জীবন তাকে ভালোবাসার খোঁজে অনুপ্রাণিত করেছে।


নিউইয়র্ক পোস্টকে এরিন বলেন, ‘আমার ডেটগুলোর একটি বড় অংশ হয়েছে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এবং সেভাবেই মানুষের সাথে দেখা করেছি, কারণ সামাজিকভাবে এটাই এখন গ্রহণযোগ্য।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরাসরিও মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি এবং সেভাবে ডেটেও গেছি। কেউ আমার জন্য সম্বন্ধ নিয়ে আসলেও আমি সবসময় খোলা মনে তা বিবেচনা করি। আমি আক্ষরিক অর্থে সব কিছুই করেছি যা আমার জানা ছিল, আর এভাবেই আমি হাসব্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনের ধারণায় এসে পৌঁছেছি।’


অনেকেই তার এই উদ্যোগের সমালোচনা করে তাকে মরিয়া বলতে পারেন, তবে এরিন তা মনে করেন না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা থাকা মানেই আপনি সেটার জন্য মরিয়া। আমি কী চাই সে বিষয়ে আমি কেবল খুব স্পষ্ট এবং খুবই মনোযোগী। এটি মজার ছলে করার একটি সুযোগ ছিল, তবে এটি এমন একটি বিষয় যা আমি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খুঁজছি।’


তিনি আশা করেন, সব আবেদন যাচাই-বাছাই এবং ইন্টারভিউ শেষে হয়তো তার এই সাহসী উদ্যোগ সফল হবে।


সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট


ডিবিসি/ এসভিএন
 

আরও পড়ুন