সারা বাংলা
ভৈরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল শ্রমিকের, আহত ২

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নির্মাণাধীন একটি ৭ তলা ভবনের পাইলিংয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শান্ত মিয়া (১৮) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গোধূলি সিটি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শান্ত মিয়া ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারুয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার মৃত আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে সোবেল মিয়া (৩৫) এবং আবুল মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোধূলি সিটি এলাকায় আরিফুল ইসলাম সেন্টু নামের এক ব্যক্তির ৭ তলা ভবন নির্মাণের জন্য গত প্রায় বিশ দিন ধরে পাইলিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ক্রেনের সাহায্যে প্রায় ৭০ ফুট লম্বা একটি লোহার খাঁচা গর্তে নামানোর কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ ক্রেনের হুক ছিঁড়ে গিয়ে লম্বা খাঁচাটি পাশের একটি উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে যায়। এতে পুরো খাঁচাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে তিন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
পরে ভবনের মালিকপক্ষ ও অন্য শ্রমিকরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে হাবিবা জুঁই শান্ত মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোবেল ও মিন্টু মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসান মিয়া জানান, সকালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনাটি ঘটতে দেখেন। ক্রেনের সাহায্যে লম্বা খাঁচাটি গর্তে নামানোর সময় সেটি পাশে থাকা বিদ্যুতের লাইনে জড়িয়ে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিন শ্রমিক হতাহত হন।
ভবনের মালিক আরিফুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘পর্যাপ্ত সতর্কতা মেনেই কাজ চলছিল। শ্রমিকরা কাজ করার সময় ক্রেনের হুক ছিঁড়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে, তারা ভৈরবের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।’
এ বিষয়ে ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান জানান, পাইলিংয়ের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শান্ত মিয়া নামের এক শ্রমিক মারা গেছেন। খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিবিসি/এমএনকে