ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরজান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরজান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ, সারা বাংলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরজান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সরকারি কলেজের সামনে কাশবন থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় আরজান মিয়া ওরফে আবদুল্লা (১৯) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় নিহতের লুণ্ঠিত ভিভো মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং চোরাই মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পিবিআই।

আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানায় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়।

 

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে অটোরিকশাসহ নিখোঁজ হন নাসিরনগরের বাসিন্দা আরজান মিয়া। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে নাসিরনগর সরকারি কলেজের সামনে জসিম উদ্দিনের মার্কেটের দক্ষিণ পাশে কাশবনের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার হাত, পা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা এবং হাঁটুর ওপর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল।

 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া তদন্তভার গ্রহণ করে।

 

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১ অক্টোবর হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামসু মিয়ার কাছ থেকে নিহত আরজানের লুণ্ঠিত ভিভো মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ সদরের পৌর মার্কেটের সোহেল টেলিকম এ অভিযান চালিয়ে সিহাব হোসেন (৩২) ও মো. রাহাব আলী ওরফে জুয়েল (৩২) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

পিবিআইয়ের তদন্তে তানভীর আহমেদ ওরফে তুহিন (৩৫) ও রিমন ওরফে মাহফুজুর রহমান (২৫) নামে দুইজনকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত করার কথা জানানো হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আরজানকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে মরদেহ নাসিরনগরে ফেলে যাওয়া হয়।

 

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি হবিগঞ্জ সদরের সোহেল টেলিকম এ নিয়ে যাওয়া হয়। গ্রেপ্তার সিহাব ও জুয়েল মোবাইলটি লুণ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি জানার পরও ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনে নেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তারা অবৈধ লাভের আশায় সেটি ৩ হাজার ৮০০ টাকায় সামসু মিয়ার কাছে বিক্রি করেন।

 

পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার সচিন চাকমা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআই গুরুত্ব দিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মোবাইল উদ্ধারের সূত্র ধরে চোরাই মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

গ্রেপ্তার সিহাব হোসেন ও রাহাব আলী ওরফে জুয়েলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে শনাক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পিবিআই। মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।

 

ডিবিসি/ আরএফই

আরও পড়ুন