স্বাস্থ্য
বিশ্বে মৃত্যুর শীর্ষে হৃদরোগ, এক বছরেই প্রাণহানি ৯৫ লাখ: ডব্লিউএইচও

বিশ্বব্যাপী মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে শীর্ষে অবস্থান করছে ‘ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ’ বা হৃদরোগ। ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৬ শতাংশ বা ৯৫ লাখ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই একক ঘাতক ব্যাধি। ২০০০ সালের তুলনায় এ রোগে মৃত্যু বেড়েছে অন্তত ৩০ লাখ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত সর্বশেষ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদরোগের পর মৃত্যুর দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রধান কারণ যথাক্রমে স্ট্রোক এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)। ২০২৩ সালে স্ট্রোকে প্রায় ৬৮ লাখ এবং সিওপিডিতে ৩৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শীর্ষ ১০-এর তালিকায় থাকা অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমার্স (২১ লাখ), ষষ্ঠ স্থানে ডায়াবেটিস (২০ লাখ) এবং সপ্তম স্থানে ফুসফুস ও শ্বাসনালীর ক্যান্সার (১৮ লাখ)। এছাড়া কিডনি রোগ আগের চেয়ে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার নবম স্থানে উঠে এসেছে।
সংক্রামক ব্যাধিগুলোর মধ্যে লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন বা শ্বাসতন্ত্রের নিম্নভাগের সংক্রমণ তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যাতে মৃত্যু হয়েছে ২৭ লাখ মানুষের। অন্যদিকে ২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর প্রথমবারের মতো মৃত্যুর শীর্ষ দশের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে কোভিড-১৯। ২০২৩ সালে এতে মৃত্যু কমে ৯ লাখে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে এর অবস্থান নেমে গেছে ১৪তম স্থানে। একইভাবে এইচআইভি ও এইডসে মৃত্যু ৬২ শতাংশ কমে বর্তমানে তা ২২তম অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫৪ শতাংশই ঘটেছে এই প্রধান ১০টি কারণে। এর মধ্যে ৮টিই অসংক্রামক ব্যাধি। তবে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এখনও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগগুলোই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বরাদ্দ নিশ্চিত করতে মৃত্যুর এসব কারণ বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: ডব্লিউএইচও
ডিবিসি/আরএসএল