ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

সারা বাংলা

গাইবান্ধায় লাল-সবুজের পতাকায় শেষ বিদায় ৮৪ বছর বয়সী বীরাঙ্গনা ফুলমতির

গাইবান্ধায় লাল-সবুজের পতাকায় শেষ বিদায় ৮৪ বছর বয়সী বীরাঙ্গনা ফুলমতির

সারা বাংলা

গাইবান্ধায় লাল-সবুজের পতাকায় শেষ বিদায় ৮৪ বছর বয়সী বীরাঙ্গনা ফুলমতির

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের ক্ষত বুকে নিয়ে দীর্ঘ ৮৪ বছর পার করেছেন তিনি। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর মিলেছিল বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। সেই অকুতোভয় নারী বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতিকে এবার লাল-সবুজের জাতীয় পতাকায় আবৃত করে, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থতার কারণে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বীর নারী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সাদুল্লাপুর উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার মরদেহে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে তাকে গভীর শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানান।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন ফুলমতি। দেশ স্বাধীনের পর দীর্ঘ ৪৫ বছরের প্রতীক্ষা শেষে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। স্বীকৃতি মিললেও একাত্তরের সেই দুঃসহ স্মৃতি তিনি আমৃত্যু বয়ে বেড়িয়েছেন। জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও কঠিন সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে, আত্মমর্যাদা বজায় রেখে জীবনযাপন করেছেন তিনি।

 

বীরাঙ্গনা ফুলমতির মৃত্যুতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ফুলমতি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি একজন বীরাঙ্গনা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী নারীকে হারালাম।’

 

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বীরাঙ্গনা ফুলমতির মতো নারীদের ত্যাগ, নির্যাতন ও সংগ্রামের ইতিহাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লাল-সবুজের পতাকায় মোড়ানো এই রাষ্ট্রীয় বিদায় নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের নির্মম ইতিহাস ও বীর নারীদের পরম আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন