সারা বাংলা
রাজশাহীতে ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় স্কুলে তালা, মাঠে কলাগাছ লাগালেন জমির দাতা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেয়ায় একটি স্কুলের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছেন জমির দাতা। একইসঙ্গে স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন তিনি।
শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে উপজেলার ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’-এ এই ঘটনা ঘটান দাতা সদস্য আজাদ আলী ও তার লোকজন।
জানা গেছে, ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়। গত ৫ আগস্টের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তন করে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান করছে এবং পর্যায়ক্রমে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শনিবার স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে আজাদ আলী ও তার লোকজন শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেন। তারা প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দেন। এর ফলে স্থানীয়রাও স্কুলের নলকূপের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে জমির দাতা আজাদ আলী বলেন, সেখানে একটি টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। শর্ত ছিল তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেয়া হবে। কিন্তু সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি এবং চাকরিও দেয়া হয়নি। এই কারণে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করলেও পরে ছেলে ও ছেলের বউয়ের চাকরির শর্ত জুড়ে দেন। তার প্রথম ছেলের বউ প্রাথমিক শাখায় চাকরি করার সময় মারা যান। পরে ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করলে নতুন বউকে কেরানি পদে এবং ছেলের জন্য আরেকটি পদের দাবি করেন তিনি। কমিটি এসব শর্তে রাজি হলেও আজাদ আলী নামের ভিন্নতার অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন, যা এখনো চলমান।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, নিয়ম মেনেই স্কুলে পাঠদান চলছে এবং এভাবে স্কুল বন্ধ করা যায় না। এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, জমি এখন স্কুলের নামে। আদালত ছাড়া এই দলিল কেউ বাতিল করতে পারবে না। তালা খোলা এবং কলাগাছ সরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ডিবিসি/আরএসএল