সারা বাংলা
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চুয়াডাঙ্গায় ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের মামলায় জালাল মালিথা (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়া (কানাপুকুর) মহল্লার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিচারকের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ছাড়া জব্দ করা মাদকদ্রব্য রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার একাডেমি মোড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাস থেকে নামার সময় জালাল মালিথার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর হাতে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অবৈধভাবে মাদকদ্রব্য হেফাজতে রাখা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে তৎকালীন উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
পরবর্তীতে বিচার চলাকালে চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ৮(ক) অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় প্রদান করেন।
ডিবিসি/আরএসএল