ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই

আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে লাখ লাখ যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেয়ার অভিযোগে রবিবার (৪ অক্টোবর) নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার তরুণ ও বিরোধী দলের সমর্থকরা। এ সময় টানা তৃতীয় দিনের মতো বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাজ ঠাকরে ও উদ্ধব ঠাকরে। তারা বিতর্কিত এই সংশোধন প্রক্রিয়া বাতিল এবং নির্বাচন কমিশন প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানান। ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ ঠাকরে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলকে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, আপনারা যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। ক্ষমতায় কারা বসবে এবং কারা বিরোধী দলে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ, নির্বাচন কমিশন নয়।’


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) সুবিধা দিতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, দ্বৈত, মৃত বা অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভুলবশত বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় নিবন্ধনের জন্য গত শুক্রবার নির্দেশও দিয়েছে তারা। তবে পদত্যাগের দাবি বা চলমান বিক্ষোভ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।


এদিকে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে রবিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে শুরু করলে পুলিশ তাদের আটক করে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলেন এবং আটকদের বহনকারী গাড়িগুলোর ওপর উঠে ও রাস্তায় শুয়ে পড়ে সেগুলোর পথ আটকে দেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রী ও অধিকারকর্মী আহনা সিং বলেন, ‘পুলিশ আমার চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে। তারা চরম নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে।’ গত দুদিনেও পুলিশ রাজধানী থেকে অনেককে আটক করে এবং কেন্দ্রস্থলে সমাবেশ নিষেধাজ্ঞার আদেশ অমান্য করার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দেয়।


পদত্যাগের এই দাবি ঘিরে সামনের দিনগুলোতে আরও বড় সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। 'গণতন্ত্র রক্ষার' ডাক দিয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলোর একটি জোট। এ ছাড়া তরুণদের দল 'জেন জি ককরোচ জনতা পার্টি' আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে।


মোদি সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে তরুণদের নেতৃত্বাধীন এসব বিক্ষোভ এক নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে গত জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের জেরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা ছিল মোদির তৃতীয় মেয়াদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন