আন্তর্জাতিক
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ প্রায় ৪০০ স্কুল

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে নিরাপত্তা সংকটের কারণে ফ্রান্সে সোমবার চারশর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত মাসে শুরু হওয়া এই সহিংস অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বিভিন্ন স্কুলের ৭৮ জন কর্মী।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানান, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলে পাঠদান পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত থাকবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পাঠদানে ফেরার পরিকল্পনা করছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দের অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিবাদে গত সপ্তাহ থেকেই রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড তৈরি করে বিক্ষোভ শুরু করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এই আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ আহত হন এবং পাঁচ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়, যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না আসায় মঙ্গলবার ফের দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে প্রশাসনের দাবি, প্যারিসের একটি স্কুল থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলনে রাজনৈতিক উসকানিদাতারা অনুপ্রবেশ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে বলেন, ‘বেশ কিছু কর্মী, বিশেষ করে চরম বামপন্থীরা উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আন্দোলন ছিনিয়ে নিয়েছে এবং চরম সহিংসতায় জড়াচ্ছে। স্পষ্টতই এটি আমাদের কর্মী ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে।’ আহত শিক্ষা কর্মীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ‘এমন কিছু যা আমরা এর আগে কখনো দেখিনি।’
শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ হলো জরাজীর্ণ ভবনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের স্বল্প বেতন, শিক্ষক সংকট, সিলিং ধসে পড়া এবং ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার মতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তীব্র গরমের সময় শ্রেণিকক্ষের অসহনীয় তাপমাত্রা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জটিল অনলাইন প্রক্রিয়া নিয়েও তাদের অসন্তোষ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে সরকার যৌক্তিক বললেও রাজপথের সহিংসতাকে কঠোরভাবে নিন্দা জানিয়েছে। এ সহিংসতার অংশ হিসেবে রবিবার দক্ষিণ উপকূলীয় শহর লা সিয়োতাতে ৫৯ বছর বয়সী এক শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে মারধরের অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।
তরুণদের এই তীব্র আন্দোলন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারকে কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান ল্যাকরনুর ওপর বাজেট কাটছাঁট পুনর্বিবেচনা ও ধনীদের ওপর বিশেষ কর আরোপের দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছে দেশটির ট্রেড ইউনিয়নগুলো। চলতি সপ্তাহে আন্দোলন আরও জোরদার করতে কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্যতম প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন সিজিটি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/ এসভিএন