আন্তর্জাতিক
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতির অভিযোগে পর্তুগাল সরকারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে পর্তুগালের লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি বৈধ ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন দেশটির প্রসিকিউটররা। শনিবার (৩ অক্টোবর) তারা জানিয়েছেন, একটি বিরোধী দলের অভিযোগের ভিত্তিতে মধ্য-ডানপন্থী সরকারের ওই অনুমোদনের বিষয়ে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্তুগালের দীর্ঘদিনের চুক্তি অনুযায়ী, শান্তিকালীন সময়ে আগাম অনুমতি ছাড়াই ওয়াশিংটন এই ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। তবে যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হলে পর্তুগালের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। প্রতিবেশী স্পেনের মতো সিদ্ধান্ত না নিয়ে পর্তুগাল লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি ট্রানজিট ফ্লাইটের অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের কারণে বামপন্থী বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার এবং ইরান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত কার্যক্রমে লিসবনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
এক বিবৃতিতে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ‘লেফট ব্লক পার্টির সদস্যদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে গত এপ্রিলে আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ হয়েছে দাবি করে লাজেস ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রসিকিউটরদের কাছে অনুরোধ করেছিল লেফট ব্লক পার্টি।
তবে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল জানিয়েছেন, পর্তুগাল এই সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তার দাবি, লাজেস ঘাঁটির ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইন মেনেই হয়েছে। ওয়াশিংটনের কাছ থেকে এই অভিযানটি কেবল প্রতিরক্ষামূলক, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক এবং সামরিক লক্ষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশ্বাস পাওয়ার পরই এর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, আটলান্টিকের আজোরস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লাজেস ঘাঁটিটি ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির আওতায় মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি কৌশলগত ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসভিএন