রাজনীতি
আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে: মাহদী আমিন

আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর সমাপনী দিনের এক কর্মঅধিবেশনে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন।
পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, কানেক্টিভিটি, প্রযুক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর তিনি জোর দেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন তাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়েও অধিবেশনে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে ভবিষ্যতে বেশ কিছু গতানুগতিক কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হতে পারে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাক্রম আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মাহদী আমিন। তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো এবং ২০ হাজার খাল ও নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং তিস্তা ব্যারেজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
ডিবিসি/এফএইচআর