ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বিবিধ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখেও সচল আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্য!

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখেও সচল আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্য!

বিবিধ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মুখেও সচল আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাণিজ্য!

সিরাজুর রহমান

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ৫ই অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৬:৪৪ অপরাহ্ন

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এক গভীর অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। যার সুদূরপ্রসারী বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের অধিকাংশ স্বল্প আয়ের এবং উন্নয়নশীল দেশের পণ্য রপ্তানিতে এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

তবে এমন বৈরী পরিবেশের মাঝেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা হলেও ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ থেকে সারা বিশ্বে ৩.৯৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলারের আয়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

 

তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যের শীর্ষস্থানগুলোতে বরাবরের মতোই বড় পরাশক্তিদের আধিপত্য বজায় রয়েছে। বিশেষ করে চীনের ‘দ্য জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস’-এর তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসেই চীন সারা বিশ্বে রেকর্ড প্রায় ৪০১.৪৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং বছরের প্রথম আট মাসে তাদের মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৯২০ বিলিয়ন ডলারে।

 

অন্যদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পণ্য রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউএস সেন্সাস ব্যুরোর অগ্রিম অর্থনৈতিক সূচক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০৩.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে।

 

আঞ্চলিক বাণিজ্যের চিত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক বিশাল পরিবর্তন ও চমক লক্ষ করা যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতি ভারত চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসে প্রায় ৪৩.৮১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে একই সময়ে ভিয়েতনাম সারা বিশ্বে ৫৪.৭৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যা তাদের আগের মাসের চেয়েও ৩.২ শতাংশ বেশি।

 

ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান দেশের এই প্রবৃদ্ধির বিপরীতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর চিত্র অবশ্য বেশ হতাশাজনক। পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে মাত্র ২.৫০৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সারা বিশ্বে রপ্তানি করে। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার রপ্তানি আয় ছিল ১.২৭ বিলিয়ন ডলার এবং নেপালের আয় ছিল প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার।

 

এছাড়া, মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী উদীয়মান অর্থনীতির দেশ তুরস্কের বৈদেশিক বাণিজ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, গত এক বছরে দেশটির রপ্তানি আয় প্রায় ২৭৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। ২০২৬ সালের জুনে এক মাসেই রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৪৯৪ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

 

তবে ওই মাসে তুরস্কের মোট আমদানি ব্যয় ছিল প্রায় ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। আর গত ২০২৫ সালে দেশটির মোট বৈদেশিক বাণিজ্য ৬৩৮.৭৩ কোটি ডলারে পৌঁছালেও একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ বিলিয়ন ডলার। যার ফলে তুরস্কের সামগ্রিক রপ্তানি বাড়লেও আমদানির চাপ অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়ে গেছে।

 

এই সামগ্রিক চিত্রটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পাঠ স্মরণ করিয়ে দেয় যে, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় কিংবা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ দ্বারা দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে কোনো দেশের প্রকৃত বা টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিচার করা সম্ভব নয়।

 

একটি দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে টেকসই ও শক্তিশালী রাখতে হলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহ, বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রাপ্তি এবং আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের ভারসাম্য ইতিবাচক পর্যায়ে রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

 

বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন নানা চ্যালেঞ্জ ও অস্থিরতা থাকলেও, বিশ্বের স্বল্প আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই একটি সুসংহত ও স্বনির্ভর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

(ইন্টারনেটে প্রাপ্ত উন্মুক্ত উৎস থেকে তথ্য সংগৃহীত)

 

সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক, সিংড়া, নাটোর, বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন