সারা বাংলা
জয়পুরহাটে হাসিল দেওয়াকে কেন্দ্র করে তরুণ কৃষককে মারধর, হাট অফিস ঘেরাও

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হাটের নির্ধারিত হাসিল দেওয়ার পরও রাকিব হাসান (১৯) নামের এক তরুণ কৃষককে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আক্কেলপুর পৌর এলাকার কলেজ বাজারের ২ নম্বর গেটে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও হাট অফিস ঘেরাও করে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব কলেজ বাজার থেকে ৪৫ কেজি কচুর মুখি (কচুর বই) বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বাজারের ২ নম্বর গেটে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাঁর পথ আটকে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। রাকিব ২৫ টাকা হাসিল দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে ধরে এনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাকিবের হাতের মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজকান্দা এলাকার সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ইউএনও আশিক-উর-রহমান ক্ষুব্ধ কৃষকদের সাথে কথা বলে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর কৃষকদের একটি দল বাজারের ভেতরে থাকা হাট অফিস ঘেরাও করে। সংবাদ পেয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে কৃষকরা শান্ত হন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কলেজ বাজারে হাসিল আদায়ের কোনো সরকারি তালিকা টাঙানো নেই, যার সুযোগ নিয়ে ইজারাদারের কর্মীরা ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছেন। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্রেতা বা বিক্রেতার যেকোনো এক পক্ষের কাছ থেকে হাসিল নেওয়ার কথা থাকলেও ইজারাদারের লোকজন উভয় পক্ষের কাছ থেকেই জোরপূর্বক টাকা নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন বলেন, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। হাসিলের টাকা কম দেওয়ায় শুধু তর্কাতর্কি ও সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। অন্যদিকে কলেজ বাজারের ইজারাদার বাবলু চৌধুরী জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। তবে শুনেছি ক্ষুব্ধ লোকজন হাট অফিসে এসে পরিবেশ উত্তপ্ত করে এবং তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে গেছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর-রহমান বলেন, কৃষকদের সাথে কথা বলা হয়েছে। হাটের দৃশ্যমান স্থানে হাসিল আদায়ের সরকারি মূল্যতালিকা টানানোর জন্য ইজারাদারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে শিগগিরই আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
ডিবিসি/এমএনকে