আন্তর্জাতিক
গুলি করে সাবেক মার্কিন সেনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ ট্রাম্পের

২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ১৩ জন মানুষকে হত্যা করা সাবেক এক মার্কিন সেনা মনোচিকিৎসককে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন জানিয়েছে, মুসলিম বিশ্বে মার্কিন যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে ২০০৯ সালে ওই নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন মেজর নিদাল হাসান।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক্স-এ জানিয়েছেন, সাবেক মার্কিন সেনা মেজর নিদাল হাসানকে আর্মি ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সুপারিশে অনুমোদন করেছেন ট্রাম্প। পার্নেল উল্লেখ করেছেন যে, হামলার সময় নিদাল হাসান ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়েছিলেন। ওই হামলায় ১২ জন নিরস্ত্র সক্রিয় সেনা সদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নিহত হন এবং আরও ৩২ জন আহত হন।
পার্নেল আরও জানান, সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। তিনি বলেন, ‘হাসানের বিচারোদিন দিন অবশেষে এসে গেছে।’
মারাত্মক সব ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে ফাঁসির পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদিত মাধ্যম হিসেবে সম্প্রতি ফায়ারিং স্কোয়াড, বৈদ্যুতিক চেয়ার এবং গ্যাস অ্যাসফিক্সিয়েশন যুক্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মারণঘাতী ইনজেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে ক্রমবর্ধমান জটিলতা এবং অন্যান্য কারণে এই বিকল্পগুলোর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুইশ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রিজন কর্মীদের ভুলে মারণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ায় ক্রিস্টা পাইক নামের ওই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বেঁচে গেলেও অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। শিরায় ইনজেকশন দিতে গিয়ে কারারক্ষীদের সম্ভাব্য জটিলতার আশঙ্কায় পাইকের আইনজীবীরা আগেই ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো বিকল্প বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
মধ্য টেক্সাসের একটি সামরিক ঘাঁটির মেডিকেল ফ্যাসিলিটিতে লেজার-সাইটেড হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনায় ২০১৩ সালের আগস্টে একটি সামরিক জুরি বোর্ড নিদাল হাসানকে ৪৫টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সি হাসান আফগানিস্তানে মোতায়েন হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে ওই হামলা চালান। গ্রেফতারের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি আংশিক পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং হুইলচেয়ারে জীবন কাটাচ্ছেন।
মৃত্যুদণ্ড বিরোধী গ্রুপ ‘ডেথ পেনাল্টি অ্যাকশন’ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প হত্যার ক্ষমতার চেয়ে অন্য কোনো কিছু এত ভালোবাসেন না।’
সামরিক মৃত্যুদণ্ড বেশ বিরল। সামরিক বিচার ব্যবস্থার কোড অনুযায়ী, কোর্ট-মার্শালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড ‘প্রেসিডেন্টের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত’ কার্যকর করা যায় না। ওই গ্রুপটি জানিয়েছে, হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে তা হবে ১৯৬১ সালের পর প্রথম কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ঝুলিয়ে। আর মার্কিন সামরিক বাহিনীর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ নথিবদ্ধ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য মতে, কমপক্ষে পাঁচটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যে ফায়ারিং স্কোয়াডের বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসভিএন