আন্তর্জাতিক, ভারত
ভারতের পাঞ্জাবের
সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে নেতাকে বিয়ের কয়েকমাস পর স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও নারী

পাঞ্জাবের ফতেহগড় সাহিব জেলার আম আদমি পার্টির (আপ) এক নেতাকে পিসিএস (প্রদেশ সিভিল সার্ভিস) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে বিয়ে করার এবং বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
আপের যুগ্ম সম্পাদক অমরিন্দর সিং মানদফাল অভিযোগ করেছেন যে ওই নারী ও তার পরিবার তাকে অবিবাহিত এবং পিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। এমনকি ওই নারী তার বয়সও গোপন করেছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মনবিন্দর কৌরকে বিয়ে করেন অমরিন্দর সিং। ওই বিবাহ অনুষ্ঠানে পাঞ্জাব বিধানসভার স্পিকার কুলতার সিং সানধওয়ান ও কেবিনেট মন্ত্রী তরুণপ্রীত সিং সউন্দসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট আপ নেতা এবং জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আপ নেতার অভিযোগ, বিয়ের পর ওই নারী বাড়ি থেকে সোনা ও রূপার গহনা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে গেছেন।
মানদফালের ভাষ্যমতে, পরে তিনি ওই নারীর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন এবং তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। এছাড়া ওই নারীর আগের পক্ষের ১৮ বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। মিথ্যা পরিচয় ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে তাকে এই বিয়েতে প্রতারিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মানদফাল।
তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কৌরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছে। এফআইআর-এ নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন- তার ভাই তারলোচন সিং, মা বরিন্দরজিৎ কৌর, চাচাতো ভাই নরিন্দর সিং গোল্ডি, ভায়রা ভাই রূপিন্দর কৌর এবং সাবেক গ্রাম সরপঞ্চ সুরিন্দর সিং রানা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সবাই তরণ তরণ জেলার ভিখিওয়িন্ড থানা এলাকার সুর সিং গ্রামের বাসিন্দা।
গত ফেব্রুয়ারির ওই হাই-প্রফাইল বিয়েতে বেশ কয়েকজন আপ নেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি উপস্থিত থাকায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সে সময় রাজনৈতিক নেতাদের নবদম্পতির সঙ্গে আনন্দ করতে এবং ভাঙড়ায় অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সিং একাধারে জেলা পরিষদ সদস্য এবং মার্কেট কমিটি সিরহিন্দ-এর চেয়ারম্যান। হাই-প্রফাইল ওই বিয়ের কয়েক মাস পর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল, আর বর্তমানে পুলিশ অভিযোগগুলো তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/ এসভিএন