আন্তর্জাতিক, আমেরিকা
যুদ্ধ থামাতে ইরানকে অবশ্যই পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমাতে হবে: জেডি ভ্যান্স

চলমান সাত মাসের যুদ্ধ শেষ করতে এবং মার্কিন দাবি মেটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহভাবে’ কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরান কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনও নিশ্চিত নয়।
ভ্যান্স বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর ঘোর বিরোধী হলেও এই সংঘাত নিরসনে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন। গত জুনে তিনি একটি সাময়িক শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যা দ্রুতই ভেস্তে যায়। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যদি পারমাণবিক অস্ত্র না চান, তাহলে আপনার কেন ৬০% সমৃদ্ধ জ্বালানি দরকার? আর আপনি যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেখাতে চান, তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ জ্বালানি তৈরি করবেন না। এটি একেবারে প্রাথমিক একটি বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেখাতে চায়, তবে তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতার বিষয়ে অর্থবহ কিছু করা উচিত।’
যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবের দেয়া নেয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভ্যান্স জানিয়েছেন, চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র এখনও প্রস্তুত, তবে ইরানকে পারমাণবিক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ছাড় দিতে হবে। তার ভাষায়, ‘আমরা কাজের বদলে কথার লেনদেন করতে রাজি নই।’
ভ্যান্স জানান, তেহরানে কারা মূল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা নিয়ে ওয়াশিংটন অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর, ইরানের ক্ষমতা কাঠামোতে এই নেতাদের ঠিক কতটা প্রভাব রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা একটি বিষয় বুঝতে পেরেছি যে, তাদের দেশ কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয় তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।’
এর জবাবে রবিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা খুব ভালো করেই জানেন তাদের ইরানি প্রতিপক্ষ কারা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে। তার দাবি, ‘সমস্যা আসলে উল্টো: মার্কিন কর্মকর্তাদের সাংঘর্ষিক অবস্থান এবং বিভ্রান্তিকর বার্তাই এর মূল কারণ।’
প্রতি মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই যুদ্ধ আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের চাপে ফেলেছে। তবে রণাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়ে ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন এবং অস্ত্র সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ইরানি সেনারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে মাঝেমধ্যে হামলা চালাতে পারলেও, জ্বালানি রপ্তানি পুরোপুরি আটকে দেয়ার সক্ষমতা তাদের নেই।
এদিকে আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন ভ্যান্স। সুলিভান তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উপক্রম করলে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স রয়টার্সকে জানান, তিনি এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, ‘আমি স্বভাবগতভাবেই দীর্ঘসূত্রী। আমি আসলে এ নিয়ে খুব একটা ভাবিনি।’
সূত্র: রয়টার্স
ডিবিসি/ এসভিএন