ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

আন্তর্জাতিক

নারীকে হত্যার জেরে জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

নারীকে হত্যার জেরে জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

আন্তর্জাতিক

নারীকে হত্যার জেরে জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আন্না ইয়াগিকে হত্যার পর তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ২০ বছর বয়সী মার্কিন মেরিন সেনা ল্যান্স কর্পোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড তার বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই ঘটনার জেরে ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এ সময়ে সেনাদের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলার ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এই পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়ে মঙ্গলবার  (৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, ‘প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য আস্থা তৈরি করে অথবা তা নষ্ট করে। যখন সেই আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।’


শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য’ বলে আখ্যায়িত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস পত্রিকাকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যালার্ড আন্না ইয়াগির ‘ঘাড়ে চাপ দেওয়ায়’ শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে।


স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শনিবার ভোরে ওই নারী নির্দিষ্ট সময়ে হোটেল ছাড়তে ব্যর্থ হলে কর্মীরা তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগীর সাথে ওই সেনাকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাকে ধরতে প্রায় ২০০ পুলিশ কর্মকর্তা তল্লাশি অভিযানে অংশ নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সাথে বৈঠক করবেন।


বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে জাপানে। এর মধ্যে ১৮ হাজার মেরিন সেনাই অবস্থান করছেন ওকিনাওয়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামরিক বাহিনীর কারণে সৃষ্ট শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাদের অসদাচরণের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার হাতে ১২ বছরের এক ওকিনাওয়ান কিশোরী ধর্ষণের শিকার হলে সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।


তাইওয়ান থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওকিনাওয়াকে চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে টোকিও ও ওয়াশিংটন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ফুতেনমা বিমানঘাঁটি থেকে মেরিন সেনাদের অপেক্ষাকৃত দুর্গম হেনোকো ঘাঁটিতে স্থানান্তর করার সরকারি পরিকল্পনা নতুন করে বাধার মুখে পড়তে পারে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরেই পুরো প্রিফেকচার থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।


সূত্র: রয়টার্স


ডিবিসি/ এসভিএন

আরও পড়ুন