ডিবিসি নিউজdbcnews.tv

বাণিজ্য

চালু হলো ৯টি পাটকল, কর্মসংস্থান প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের

চালু হলো ৯টি পাটকল, কর্মসংস্থান প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের

বাণিজ্য

চালু হলো ৯টি পাটকল, কর্মসংস্থান প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের

বাসস

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) পাটকলগুলোর চাকা ধীরে ধীরে ঘুরতে শুরু করেছে। সরকারের উদ্যোগে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়া ১৭টি পাটকলের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লিজ দেওয়া বাকি ৮টি মিল চালুর কার্যক্রমও বর্তমানে দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অব্যবহৃত সম্পদের সঠিক ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ থাকা পাটকল ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীন আরও তিনটি পাটকল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এমএম জুটমিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো-অপারেটিভ জুটমিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

যে ৯টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে: নরসিংদীর বাংলাদেশ জুটমিলস লি., যশোরের রাজাঘাটের জেজেআই লিমিটেড ও কার্পেটিং জুটমিলস লিমিটেড, খুলনার দৌলতপুর জুটমিলস লিমিটেড, ইস্টার্ন জুটমিলস লিমিটেড, খালিশপুর জুটমিলস লিমিটেড ও দি ক্রিসেন্ট জুটমিলস কোং লিমিটেড, নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলস লিমিটেড, চট্টগ্রামের নাসিরাবাদের মিলস ফারনিশিংস লিমিটেড এবং রাজশাহীর শ্যামপুরের রাজশাহী জুটমিলস লিমিটেড।

 

বিজেএমসি সূত্রে জানা যায়, বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭টি মিল বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি ও খুলনার আলিম জুটমিলস নিয়ে মামলা চলছে এবং চট্টগ্রামের আমিন জুটমিলসে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম জানান, ২০২০ সালে তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে এই মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমে আসবে এবং দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে।

 

উল্লেখ্য, ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারায় ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব মিল ৫ থেকে ২০ বছরের মেয়াদে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন